আপত্তিকর মন্তব্যকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শাস্তি দাবি কুবি শিক্ষক সমিতির

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৪৭

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যকারী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শাস্তি দাবি ও রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা ঝুলানোর প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। 

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়। এদিকে বুধবার রাতে কর্মকর্তাদের থেকে রেজিস্ট্রার পদের দায়িত্ব প্রদান ও বর্তমান রেজিস্ট্রার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু তাহেরের অপসারণের দাবিতে দফতরে তালা দেন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। তবে বিষয়টি নিয়ে একে অপরের উপর দায় চাপিয়েছেন তারা।

শিক্ষক সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সিংহভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারি সুচারুভাবে কাজ করে আসছেন। কিন্তু গত ১৯ জানুয়ারি গুটিকয়েক স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী কর্মকর্তা-কর্মচারি ঔদ্ধত্যপূর্ণ অশালীন মন্তব্য ও শিক্ষকদের বিষয়ে আপত্তিকর, অবমাননামূলক ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করে। এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য যারা রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা ঝুলিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখার দাবিও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রেজিস্ট্রার দফতরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির অর্ধশতাধিক কর্মচারি। ৩য় শ্রেণী কর্মচারি সমিতির সভাপতি দীপক চন্দ্র মজুমদার দাবি করেন, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে আমরা তালা দিয়েছি। দাবি দাওয়া পূরণ হলে আমরা তালা খুলে দিব। তবে তালা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল লতিফ বলেন, তালা দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। কে বা কারা তালা দিয়েছে আমি জানিনা। কিছু বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে তালা দিয়েছে। শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে অশালীন মন্তব্য করেছে আমার জানা নেই। কেউ যদি করে থাকে অবশ্যই খারাপ করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারি জানিয়েছেন, তাদের সংগঠন থেকে তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গতকাল রেজিষ্ট্রার মহোদয় অফিস করেছেন, আমরাও আমাদের কাজ করেছি। রাতের আঁধারে কে বা কারা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। যারা তালা মেরেছে আগামী রবিবারের মধ্যে তারা তালা না খুলে দিলে, প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমরা তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের নিয়ে গতকাল কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি অশোভন আচরণ করেছেন। এটা দুঃখজনক। তারা রেজিস্ট্রার দপ্তরে তাদের দাবি দাওয়া উপস্থাপন করতে পারে। কিন্তু তালা ঝুলিয়ে রেখেছে, এটা কাম্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারিরা কিছু দাবি দাওয়া নিয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন। কিন্তু বস্তত এসকল নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে আমার একক কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়না। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সিন্ডিকেট সভা সকল সিদ্ধান্ত এবং নীতিমালা সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করে থাকে।

তবে এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন, আমি কর্মকর্তা পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি। তালা কে মেরেছে তারা তা স্বীকার করছে না। আবার তাদের দাবিগুলোও তারা বলতে পারছে না। এটা তো হতে পারে না। তাদের দাবি উপাচার্যের কাছে। তাহলে তারা রেজিস্ট্রার দপ্তরে কেন তালা মেরেছে তা বোধগম্য নয়।

উল্লেখ্য, গতকাল (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রারের অপসারণ ও কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব দেয়ার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারি সমিতি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারিদের পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু কর্মচারি পরিষদ।

ইত্তেফাক/এসটিএম