দুই যুগ অন্যের ঘরে বসবাস, সন্তান নিয়ে বিপাকে দম্পতি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১১:১৬

ছেলিম ও সুমির দাম্পত্য জীবন প্রায় দুই যুগের। কিন্তু নিজেদের বাড়ি না থাকায় এই দীর্ঘ সময় তারা অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়ার আশায় বুক বেধে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম বরাবর দুইবার আবেদন করেন। সেই আবেদন আমলেই নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে ছেলিম ও সুমি দম্পতি দুই সন্তান নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বন্তুল গ্রামের পূর্বপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের হাজামত আলী নামে এক ব্যক্তির জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন। ছেলিম তাড়াশ পৌর এলাকার আসানবাড়ি গ্রামের মৃত নুরাল ফকিরের ছেলে।

বস্তুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হাজামত আলী বলেন, অনেকেই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন না। সেই ঘরগুলো খালি পড়ে আছে। ছেলিম ও সুমি তার দুই সন্তান ছাবিনা ও সোহানকে নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে আমার ঘরে থাকছেন। এরই মধ্যে আমার ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি। বর্তমানে আমার পুরান বাড়িতে পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে তাদেরকে ঘর ছেড়ে দিতে বলেছি।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) মো. ছেলিম হোসেন ও মোছা. সুমি খাতুন বলেন, ১৯৯৯ সালে তারা বিয়ে করেন। সেই সময় তার বোন ভূমিহীন দিলরুবা খাতুনের বাড়িতে রানীহাট আঞ্চলিক সড়কের সাথে আসানবাড়ি গ্রামে বসবাস করতেন। এরপর ২০০২ সালে নিজ গ্রাম ছেড়ে চলে যান শ্বশুরবাড়ি সগুনা ইউনিয়নের ধাপতেতুলিয়া গ্রামে। সেখানে থাকেন ১০ বছর। এ সময়ের মধ্যে ছেলিমের শ্বশুর ও শাশুড়ি তাদের সামান্য জমি দুই ছেলের নামে দলিল করে দেন। তারপর দুই ভাই মিলে সুমি ও ছেলিমকে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যেতে বাধ্য করেন। নিরুপায় হয়ে চলে যান ঢাকা শহরে। কিন্তু সেখানে একজনের রিক্সা চালানোর টাকা দিয়ে পুরো পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। তবুও ৮ বছর ঢাকাতেই থাকেন। পরে চলে আসেন নিজ উপজেলা তাড়াশে।

ছেলিম ও সুমি দম্পতি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেতে আমরা দুইবার তাড়াশের ইউএনও মো. মেজবাউল করিম বরাবর লিখিত আবেদন করি। কিন্তু আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। বেশ কদিন আগে হাজামত আলী ঘর খালি করে আমাদের চলে যেতে বলেছেন। কিন্তু আমরা কোথায় যাবো?

বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, গৃহহীন ছেলিমের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে আমি সেলিমের সঙ্গে ইউএনও স্যারের কাছে গিয়ে আবেদন জমা দেই ও বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেলিম ও সুমি দম্পতির খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।