অনন্য স্বাদের মন ভরানো পাহাড়ের ঠান্ডা আলু স্হানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। পাহাড়ের জুম ফসলের সঙ্গে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সুস্বাদু এ ঠান্ডা আলু। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ মারমা ভাষায় একে বলে রোয়াই উ। বাংলা ভাষায় ঠান্ডা আলু। এ বছর অনুকূল পরিবেশ থাকায় ফলন হয়েছে প্রচুর। এটি সাদা বাদামি বর্ণের লম্বা ও গোলাকৃতি হয়। পাতলা খোসা ছাড়িয়ে এটি কাঁচা খাওয়া হয়। স্বাদে মিষ্টি এবং খাওয়ার সময় ঠান্ডা ঠান্ডা লাগার কারণে পাহাড়ি বাঙালি সবার বেশ পছন্দের খাবার এটি।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন জানান, পাহাড়ের জুম চাষেই মূলত ঠান্ডা আলুর চাষ হয়। জুমের ফসল রোপণের সময় ধানের সঙ্গে অন্যান্য বীজসহ ঠান্ডা আলুর বীজও বপন করা হয়। ধান ও জুমের নানা সবজি ফসল উঠে গেলে আলুর গাছগুলো বাড়তে থাকে। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ঠান্ডা আলু খাওয়ার মৌসুম। অনেকে গ্রীষ্মকালে খাওয়ার জন্য সংরক্ষণ করে থাকে। প্রতি কেজি ঠান্ডা আলু ৬০ থেকে ৮০ টাকায় স্হানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।
রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ক্যনুপ্র‚ মারমা ও লংকা ত্রিপুরা জানান, ঠান্ডা আলু এক প্রকার মূল জাতীয় সবজি। বীজ থেকে দ্রুত চারা বের হয় এবং কোনো কিছুকে অবলম্বন করে গাছ বাড়তে থাকে। প্রকৃতি থেকেই ঠান্ডা আলু তার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে। বীজ বপনের সময় কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। পাহাড়ের গাছপালা পুড়িয়ে জৈব সার পাওয়া যায়। তাই আলাদাভাবে সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। অল্প পরিশ্রমে বেশি ফলন, ওজনে ভারী এবং ভালো দাম পাওয়ার কারণে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনেক সম্প্রদায় এখন পাহাড়ের জুম চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে ঠান্ডা আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা এটি কিনে সমতলের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করেন।
বান্দরবান সদর উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জুমিয়ারা জুম চাষের সময় ধান ও বিভিন্ন রকমারি সবজির সঙ্গে ঠান্ডা আলুর বীজ বপন করেন। ধান ও অন্য ফসল উঠে গেলে ঠান্ডা আলুর গাছগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। আলু বড় হলে গোড়ার মাটি ফেটে যায়। তখন ঠান্ডা আলু সংগ্রহ করা হয়।
তিনি জানান, গাছ ও পাতায় রোটেনন নামক বিষাক্ত উপাদান থাকায় ঠান্ডা আলুর গাছে সাধারণত কোনো পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত হয় না। তার মতে ঠান্ডা আলুতে ভিটামিন সি ও প্রচুর আয়োডিন থাকে। এ আলু শীতকালে পাওয়া যায়। বাজারে চাহিদা থাকায় সুস্বাদু ঠান্ডা আলুর দামও ভালো পাওয়া যায়।

অবৈধ যানের দখলে কুমিল্লার সড়ক