করোনা সংক্রমণের শুরুর পর বিশ্ব এতো বড় সংকটে আর পড়েনি। শুক্রবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ লাখেরও বেশি মানুষের রিপোর্টে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের বিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
বাংলাদেশেও অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। এই অবস্থায় সরকার বেশকিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। যাতে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে সরকারের একার পক্ষে কোনোভাবেই ওমিক্রনের এই ধরনের ঝড়ের গতিতে সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, ভারতসহ প্রায় সব দেশে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই অবস্থায় যদি ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো না যায় তবে কোনো নির্দেশনাই কাজে আসবে না।
এক্ষেত্রে বেশি জরুরি ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া। যেমন—ঘরে-বাইরে, সব জায়গায় অপরিহার্যভাবে মাস্ক পরে থাকা। যাদের বাইরে কাজ করতে হয় তাদের ঘরে ফিরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাতমুখ ধোয়া এবং বয়স্ক ও বাচ্চাদের নিয়ে এক সঙ্গে আহার পরিহার, সর্বক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা এবং বাইরে গেলে সম্ভব হলে ডাবল মাস্ক ব্যবহার করা। যদি কারো সর্দি-কাশি, জ্বর, শরীর ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়ে তবে অন্যদের থেকে আলাদা থাকা । তাতে ঘরে থাকা অন্যদের সংক্রমণ ঠেকাতে সাহাঘ্য করবে।
মনে রাখতে হবে যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ লোক ভ্যাকসিন নিয়েছে, শতকরা ৯০ ভাগের বেশি বুস্টার ডোজ নিয়েছে কিন্তু ওমিক্রনের আগ্রাসি থাবা থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ওমিক্রনকে হাল্কাভাবে দেখা ঠিক হবে না। তবে যারা ভ্যাকসিন নিচ্ছেন তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত হলেও রোগের তীব্রতা কম হবে। তাই রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি আমাদের সকলের ভ্যাকসিন ও বুস্টার ডোজ নিতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের সব পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তা হলে অনেক ক্ষেত্রে ওমিক্রন থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
লেখক : চুলপড়া, অ্যালার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

