সারাবছর পাওয়া গেলেও কমলালেবু মূলত শীতকালীন ফল। এই ফল যেমন সুস্বাদু ঠিক তেমনই স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত পুষ্টিকর। চলুন জেনে নেই এই ফলের গুনাগুণ:
কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' রয়েছে। ভিটামিন সি আমাদের শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেল থেকে মুক্ত করে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। তাই শীতকালে চেষ্টা করবেন প্রতিদিন কমলা লেবু খাওয়ার। একটি কমলালেবু আমাদের শরীরে সারাদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদার ১১৬.২ শতাংশ মেটায়।
কমলালেবু রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যআঁশ থাকে যা রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য কমলা অনেক বেশি উপকারী। এছাড়াও কমলা লেবুতে সাধারণ রাসায়নিক গঠনের চিনি থাকে ও ফ্রুকটোজ থাকে। এতে করে কমলা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে চিনির মাত্রা অত্যধিক বাড়িয়ে দেয় না। কমলালেবু যেকোনো বয়সীদের জন্যই কমলা খুবই উপকারী একটি ফল।
কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, পটাশিয়াম, কোলিন ও ভিটামিন সি রয়েছে। যার সব গুলোই হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেমন সোডিয়াম কম খাওয়া প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়ানো। কমলা লেবুতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ভিটামিন 'সি'তে ভরপুর এই ফলটি আমার শরীরের জন্য যেমন উপকারী তেমনি আমাদের ত্বক সুন্দর রাখতেও কমলালেবুর জুড়ি মেলা ভার। কমলার রস মুখের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্রণ, মুখের খোলা রোমছিদ্র সংকুচিত করতে সাহায্য। নিয়মিত কমলালেবু ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে উঠবে পরিষ্কার ও ঝকঝকে।
শীতকালে সাধারণত পানি কম পান করা হয়। এতে হজমে সমস্যা হয়। কমলালেবুতে পানি থাকায় বিপাকে সাহায্য করে। এবং এতে বিদ্যমান সাইট্রিক এসিড শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতেও অনেক সাহায্য করে।
মাড়ির যত্নে কমলালেবু খুব উপকারী। এই সাইট্রাস ফলগুলি রক্ত বাহিকা এবং টিস্যুগুলি মজবুত করে পাশাপাশি মাড়ি সুস্থ রাখে। নিয়মিত একটি কমলালেবু দাঁতের ব্যাকটেরিয়া দূর করে দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করে এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।
