বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক সিরীয় কর্মকর্তা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৪৯

জার্মানির একটি আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এক জন সাবেক সিরীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। শাসক বাশার আল আসাদের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কারো হত্যা ও নির্যাতনের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। এমন সময় এ খবর এলো যখন সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসন অবসানের লক্ষ্যে গণবিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ যখন এক যুগ পূর্ণ করতে চলেছে।

জানা গেছে, আনোয়ার রাসলান নামে ৫৮ বছর বয়সি ঐ সিরীয় কর্মকর্তাকে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় কোবলেঞ্জ শহরের একটি আদালত ১৩ জানুয়ারি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের প্রেস রিলিজে বলা হয়, সিরিয়ার জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের কুখ্যাত ব্রাঞ্চ ২৫১-এর তদন্ত প্রধান থাকাকালে তিনি ঐ অপরাধগুলো করেন। এই রায় গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে সিরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে আসা এটাই প্রথম শক্তিশালী জবাব। এক দশকের বেশি সময়ও পশ্চিমাদের আসাদের বিরুদ্ধে এমন কিছু করতে দেখা যায়নি। ২০১১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধ আসাদের অনুগত বাহিনী নির্মমভাবে দমন করে। ২০২০ সালের এপ্রিলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আসাদ বাহিনীর নিষ্ঠুরতার শিকার সিরীয়রা এই প্রথম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের পাশে পেল। আসাদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে একে প্রথম পদক্ষেপ বিবেচনা করা যায়।

এ মামলার সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন আনোয়ার আল বুন্নি, যিনি দেশটির একজন সুপরিচিত মানবাধিকার আইনজীবী। তিনি এ রায়কে ’ঐতিহাসিক’ এবং ’সিরীয় জনগণের জয়’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘যদিও এটি একটি মামলা মাত্র, কিন্তু এই প্রথম রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা কোনো ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডের জন্য দণ্ডিত হলেন।’ বুন্নি বার্লিনে একটি শরণার্থী শিবির দেখাশোনা করেন। সাত বছর আগে রাসলান সেখানে আশ্রয়ের জন্য যান। প্রথম দেখায় বুন্নি রাসলানকে চিনতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ঠিকই তাকে শনাক্ত করেন এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেন। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। অবশেষে ২০১৯ সালে রাসলানকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে বুন্নি বলেন, রাসলান ২০০৬ সালে দামেস্কের একটি এলাকা থেকে আটক পাঁচ বছর কারান্তরীণ রেখেছিল।

রাসলানের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২৯ এপ্রিল ২০১২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনার জন্য অভিযোগ আনা হয়। গৃহযুদ্ধ তখন অনেকটা প্রাথমিক অবস্হায় ছিল। তার বিরুদ্ধে ব্রাঞ্চ ২৫১ আটক কেন্দ্রের প্রধান থাকাকালে ২৭ জনকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ব্যক্তিকে বন্দি রাখা হয়েছিল সেখানে। বৈদ্যুতিক শক ও যৌন নিগ্রহসহ নানাভাবে তারা সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের কোনো চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং যে খাবার তাদের দেওয়া হতো তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বন্দিরা সেখানে অনবরত অপর বন্দিদের আর্তনাদের আওয়াজ শুনত। এতে আরো বলা হয়, আসাদ সরকার ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে নিজ জনগণের বিরুদ্ধে ’নিয়মিত মাত্রাতিরিক্ত শক্তি’ প্রয়োগ করে এসেছে। আদালতের মুখপাত্র অ্যান ক্রিশ্চিয়ানা ব্র‚দোফেল বলেন, রাসলান যদিও নিজ হাতে সে অপরাধগুলো করেননি কিন্তু অধীনস্থদের কাজের দায় তিনি এড়াতে পারেন না। আত্মপক্ষ সমর্থনকালে রাসলান বলেন, ২০১২ সালে তিনি আসাদের পক্ষ ত্যাগ করেন। তার আইনজীবী বলেছেন, রাসলান কখনো বন্দি নির্যাতনের নির্দেশ দেননি। তিনি বরং একাজের জন্য কিছু সৈন্যকে শাস্তি দিয়েছেন। তবে আদালত এসব যুক্তি অগ্রাহ্য করে দিল বলে যে রাসলান আরো আগে পক্ষ তাগ করতে পারতেন। তাকে প্যারোলের সুযোগসহ ১৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

জার্মানি এবং অন্যান্য দেশে বসবাসরত সিরীয়রা এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে আসাদ সরকারের নিপীড়ন এখনো বন্ধ হয়নি। জার্মান সিরিয়ান মানবাধিকার গ্রুপ এডপ্ট এ রেভলুশন এক বিবৃতিতে বলেছে, এই রায়ে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নাই। জার্মান সরকারের উচিত রাসলনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গকে যেন আইনের মুখোমুখি করা যায় সে উদ্যোগ গ্রহণ করা। রায়কে স্বাগত জানিয়েছে হিউম্যান রাইট ওয়াচও। সংস্থাটি এ রায়কে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে অন্যান্য সিরিয়ার ব্যাপারে দেশকেও জার্মানির দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আবার আলোচনায় নর্দান আয়ারল্যান্ড প্রটোকল

‘করোনার চেয়ে বেশি মৃত্যু দূষণে’

পরিবেশ দূষণে ২০১৯ সালে ৬ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু

রাশিয়ার ওপর ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা অর্থনৈতিক আত্মহত্যার সমতুল্য: পুতিন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এলিজাবেথ লাইনের উদ্বোধন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের

মূল্যবৃদ্ধিতে শিশুদের অপুষ্টি বিপর্যয়কর হতে পারে

কিউবা নীতিতে বদল আনলো যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কারাবন্দি চীনের উইঘুর মুসলিমরা