বাজারের অনিয়ম বন্ধে চলবে অভিযান: রসিক মেয়র

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৫২

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, অনিয়মের স্বর্গরাজ্য এখন রংপুর সিটি বাজার। যেখানে নিয়ম-নীতির বালাই নেই। অনিয়মের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। এসব অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। এসব বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ৫ দফার দাবি অযৌক্তিক এবং সকাল-সন্ধ্যা হরতালের স্বপক্ষে মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে সাধারণ ব্যবসায়ী ও রংপুরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৪ দশমিক ১৬ একর জমির উপরে সিটি বাজার প্রতিষ্ঠিত। এখানে ছোট বড় মিলিয়ে ১ হাজার ১১২ টি দোকান রয়েছে। ঐসব শ্রেণিভেদে যার ভাড়া মাত্র ৯০ টাকা থেকে শুরু করে ৬৭৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া পায় সিটি করপোরেশন। নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এই বাজারের দোকানগুলোর ভাড়া এত কম যা সত্যি অবিশ্বাস্য।

এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২২ অর্থবছরে সিটি বাজার, সিটি বাজার সাইকেল স্ট্যান্ড ও গণশৌচাগার ইজারা থেকে আয় প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে কঞ্জারভেন্সি শাখা, বিদ্যুৎ শাখা ও প্রকৌশল শাখা হতে উন্নয়নমুলক কাজে মোট ব্যয় প্রায় ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। যা ব্যয়ের হার ১১৭ দশমিক ৩৮ ভাগ। যেখানে সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের পরিমাণ মাত্র ৪৫ শতাংশ। তা স্বত্বেও সিটি বাজার উন্নয়নে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। গণশৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু হলে সমিতির নেতৃবৃন্দ নকশা মনের মতো হয়নি বলে অত্র সমিতি কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে তাদের দাবী অনুযায়ী নতুন নকশায় কাজ চলমান রয়েছে। যার ব্যয় ৬৩ লাখ টাকা। এছাড়া পার্কিং, গেট ছাড়াও পানি নিস্কাশনের জন্য ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেন ও ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে। 

এ সময় মেয়র বলেন, এতকিছু সুবিধার দেওয়ার পরেও সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যমুলকভাবে হরতাল পালন করে বক্তব্য রেখেছে, যা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে হতবাক করেছে। সিটি বাজার ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান ভাড়া পরিশোধ করে সেই মান্ধাত্তার আমলের হিসেবে। সেটাও কয়েক লাখ টাকা বাকি রয়েছে। এছাড়াও সমিতির নেতৃবৃন্দ অবৈধভাবে দোকানের সামনে দোকান বসিয়ে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন। সেই দোকানগুলো বাজারের ক্রেতা সাধারণের জন্য চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। অচিরেই জেলা প্রশাসনের সহযাগিতা নিয়ে এই অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে ক্রেতা সাধারণের জন্য চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব মো. মাহামুদুর রহমান টিটু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন মিঞা, সচিব উম্মে ফাতেমা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন, প্রধান হিসেব রক্ষক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, সংশ্লিষ্ট ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেকেন্দার আলী, ২০ নং ওইয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাহাবুবর রহমান মঞ্জু, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুনতাছীর শামীম লাইকো, ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায়, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজু, রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মাহবুব রহমান হাবু, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, আফতাব হোসেন, নজরুল মৃর্ধা জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক, রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও অন্যান্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি