লিগের অধারাবাহিক পারফর্মেন্সের ছাপ ইউরোপা লিগে পড়তে দিচ্ছে না আর্সেনাল-চেলসি। প্রথম লেগে হার সত্ত্বেও নিজেদের মাঠে বাটে বরিসভকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতাটির শেষ ষোলয় পৌঁছে গেছে আর্সেনাল। রাতের অন্য ম্যাচে চেলসিও একই ব্যবধানে মালমোকে হারিয়েছে। প্রথম লেগে ২-১ গোলের জয় পাওয়ায় সব মিলিয়ে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে পা রেখেছে কোচ মাওরিজিও সারির দল।
এদিকে প্রতিযোগিতার পরের পর্বে পা রেখেছে ইন্টার মিলান, ন্যাপোলি, সেভিয়া, ভ্যালেন্সিয়া ও ভিয়ারিয়াল।
প্রতিপক্ষ বাটের কাছে আগের লেগে ১-০ গোলে হেরে এসেছিলো আর্সেনাল। প্রতিযোগিতার পরের পর্বে যেতে হলে আর্সেনালকে জিততে হতো অন্তত দুই গোলে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়া আর্সেনাল ৩৯ মিনিটে শাকোদ্রান মুস্তাফির গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে। ৬০ মিনিটে সক্রেটিস পাপাস্টাথোপৌলুসের গোলে জয় নিশ্চিত করে গানাররা।
গেল ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মত পুরো ম্যাচে খেলেছেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। বাটের বিপক্ষে পারফর্মেন্স দিয়ে কোচের নজর কেড়েছেন তিনি। এমেরির ভাষায়, ‘এই ম্যাচে যে উদ্দীপনা দেখিয়েছে সে তা সত্যিই বেশ ভালো। তার গুণ, সামর্থ্য ও খেলোয়াড়দের সাথে বোঝাপড়া দারুণ। আমি মনে করি প্রতিটি খেলোয়াড়কেই প্রয়োজন আর আমার মেসুতকে খেলানোর ব্যাপারটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিলো একই সাথে ইতিবাচকও।’
জয়ের সিংহভাগ কৃতিত্ব ওজিলকেই দিলেন এমেরি। স্প্যানিশ কোচের ভাষায়, ‘তাকে খেলানোর কারণে আমরা তিনটি গোল পেয়েছি। আমি জানি যদি দৌড়ে প্রতিপক্ষ বক্সে যাই তবে আমাকে খুঁজে বের করার সামর্থ্যটা তার আছে।’
লন্ডনের অন্য দল চেলসির জয়টা একই ব্যবধানের হলেও তাদের প্রতিটি গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। গোলগুলো আসে যথাক্রমে অলিভিয়ের জিরু, রস বার্কলে ও ক্যালম হাডসন অডইয়ের পা থেকে।
জয়ের পর চেলসি কোচ সারির প্রতিক্রিয়াতেও উঠে এলো প্রথমার্ধে অসুবিধার কথা। ইতালীয় মিডফিল্ডার জর্জিনহোকে শুরুর একাদশে না রাখাতেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে বলে মনে করেন সারি। তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের বল কেড়ে নেওয়ার চাপের মুখে নিজেদের অর্ধ থেকেই বের হতে পারছিলাম না আমরা। জর্জিনহো থাকলে কাজটা সহজ হয়ে যায় বলে মনে করি আমি।’
দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম লেগে র্যাপিড ভিয়েনাকে হারিয়ে এসেছিলো ইন্টার মিলান। ঘরের মাঠের ফিরতি লেগেও ৪-০ গোলের জয়ে শেষ ষোল নিশ্চিত করেছে কোচ লুসিয়ানো স্প্যালেত্তির দল। প্রতিযোগিতার অন্য ইতালীয় দল ন্যাপোলিও পরের পর্বের টিকিট কেটে ফেলেছে। এফসি জুরিখের বিপক্ষে আগের লেগে ৩-১ গোলের জয়ে শেষ ষোলয় এক পা দেওয়া কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির দল এদিন সুইস দলটিকে হারিয়েছে ২-০ গোলে।
স্প্যানিশ দলগুলোর মধ্যে সেভিয়া, ভ্যালেন্সিয়া ও ভিয়ারিয়াল শেষ ষোল নিশ্চিত করলেও বিদায় নিয়েছে রিয়াল বেতিস। নিজেদের মাঠে ফরাসি দল রেনেসের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তারা। তবে ঘরের মাঠে ল্যাজিওকে ২-০ গোলে সেভিয়া, ভ্যালেন্সিয়া ১-০ গোলে সেল্টিককে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলো। অন্যদিকে ভ্যালেন্সিয়া স্পোর্টিং লিসবনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও প্রথম লেগে পাওয়া জয়ের সুবাদে শেষ ষোলয় উঠে গেছে।
শেষ ষোলোয় আর্সেনালের প্রতিপক্ষ ফরাসি দল রেনেস। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে চেলসি মুখোমুখি হবে ডায়নামো কিয়েভের। এ ছাড়াও, শেষ আটে জায়গা করে নেয়ার লক্ষ্য ইন্টার মিলান লড়বে জার্মান দল এইনট্র্যাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে। ন্যাপোলির প্রতিপক্ষ রেড বুল সালজবুর্গ। এছাড়াও ভ্যালেন্সিয়া এফসি ক্রাসনোদারের বিপক্ষে, সেভিয়া স্লাভিয়া প্রাহার বিপক্ষে লড়বে এবং ভিয়ারিয়ালের লড়াই হবে জেনিথ সেইন্ট পিটার্সবার্গের সঙ্গে।
