সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নিলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ শান্তিরক্ষী থাকবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স এ তথ্য জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়া থেকে সব সৈন্য ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মিত্রদের তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে। সিরিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ‘প্রায় পরাজিত’ বলে ট্রাম্প দাবি করলেও পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নিলে সেখানে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে, তা আইএসের পুনরুত্থানে ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া থেকে সরে এলে তাদের মিত্র কুর্দি বাহিনী আক্রান্ত হতে পারে এ সম্ভাবনা বিবেচনা করেও সেখানে কিছু সৈন্য রেখে দেওয়ার প্রস্তাব করছেন অনেকে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও অনেকে এ ধরনের ব্যবস্থার পক্ষে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে তারই প্রতিফলন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স, কিছু সময়ের জন্য দুইশ শান্তিরক্ষীকে সিরিয়ায় রাখা হবে।’
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা আসলো। টেলিফোন আলাপে দুই নেতা সিরিয়ায় একটি ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তা এলাকা’ গ্রষ্টিতে ধারাবাহিক সহযোগিতার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তিরক্ষীদের রাখবে তারা কতদিন থাকবে এবং কোথায় তাদের মোতায়েন করা হবে সে বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। মার্কিন শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিশ্রুত সেনা মোতায়েন করলে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে ধারণা পশ্চিমা বিশ্লেষকদের।
২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। অপরদিকে রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।
