পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌ মহড়া শুরু

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৫

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে তিনদিনের নৌ মহড়া গতকাল শুরু করেছে ইরান। এই মহড়ায় তেহরান প্রথমবারের মতো সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী থেকে আরব সাগর পর্যন্ত এ মহড়ায় শতাধিক নৌযান অংশ নিচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে। “নানামাত্রিক হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে এ মহড়াটি হচ্ছে। এখানে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি অস্ত্র ও সরঞ্জামের পরীক্ষা, সেগুলোর কার্যকারিতা ও প্রস্তুতি দেখা হবে। সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ এবং এর পাশাপাশি সাহান্দ যুদ্ধজাহাজ থেকে হেলিকপ্টার ও ড্রোন উড়ানো হবে,” ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এমনটাই বলেছেন নৌ কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল হোসেইন খানহাদি। নিজেদের বানানো নতুন ডুবোজাহাজ ফাতেহ-কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি সেখান থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রক্রিয়া এবারের মহড়ায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যে হরমুজে এ নৌ মহড়ায় নজর রাখছেন পশ্চিমা বিশ্লেষকরাও। যুক্তরাষ্ট্র তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে বা অন্য কোনো ধরনের শত্রুতামূলক আচরণ করলে এ প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও ইরানের হুঁশিয়ারি আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও বিস্তৃত করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরেই ইরান তাদের নিজেদের বানানো সাহান্দ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে; দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি কাটিয়ে একই মাসে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জন সি স্ট্যানিস। ইসলামি বিপ্লবের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে এ মাসের শুরুতে ইরান এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার নতুন একটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও উন্মুক্ত করেছে।