একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার শহিদ পরিবারের পাঁচ বিধবা পাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে তাদের দুঃখের সময়ের অবসান হতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রথম দফায় ভিখারি ইফাতন বেওয়া, সমলা বেওয়া (যুদ্ধাহত), সালেহা বেওয়া, রাবেয়া বেওয়া ও হামিদা বেওয়া রাস্ট্রীয় সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ মল্লিক জানান, মাহমুদপুর গণহত্যায় ১৭ জন শহিদ হন। স্থানীয় প্রশাসন গণহত্যাস্থলে ‘স্বাধীনতা একাত্তর’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক পত্রে এদেরকে শহিদের মর্যাদা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা অনুদানও দেন। কিন্তু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সব ছাইচাপা পড়ে। ইফাতন বেওয়া ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করেন। অন্যরা দিনমজুরি করে জীবন চালাতে থাকেন। ৫০ বছর ভিখারি ইফাতন বঙ্গবন্ধুর সেই চিঠি আগলে রাখেন। গত ৬ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকে ‘পাঁচ দশক বঙ্গবন্ধুর চিঠি সংরক্ষণ করছেন অসহায় ইফাতন বেওয়া’ শিরোনামের খবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। তিনি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে দ্রুত খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক গত ১০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার নিয়ে ইফাতন বেওয়ার বাড়ি যান।
গত ১৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাহমুদপুর গণহত্যার প্রসঙ্গে বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, শহিদ বা গণহত্যার শিকার পরিবার ভিক্ষে করে খাবে, এটি খুবই লজ্জার। যাদের অবদানে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, যারা জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে রক্ত দিয়েছেন, তারা কেন অসহায় জীবনযাপন করবে। আমরা যখন ক্ষমতায় আছি, তখন দেখতে চাই না যে, কোনো শহিদ পরিবার, যার হাতে জাতির পিতার চিঠি, সে ভিক্ষা করে খাবে, এটা যেন আর না হয়।’

টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ১০ বছর, বহাল বিল