কিউবায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে ৫৭ বছর আগে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সেরকম আরেকটি ‘মিসাইল ক্রাইসিসের’ জন্য রাশিয়া সামরিকভাবে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য করলে মস্কো মার্কিন জলসীমার কাছে জাহাজে কিংবা সাবমেরিনে শব্দের চেয়েও কয়েকগুণ গতিসম্পন্ন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বুধবার রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলিতে সংসদ সদস্য, বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নর ও সামরিক-বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পুতিন এ হুঁশিয়ারি দেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। স্নায়ুযুদ্ধের কালে ১৯৬২ সালে তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় কিউবায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায় মস্কো।
ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরের দেশে সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জন কেনেডি ও তার প্রশাসনকে আতঙ্কিত করে তোলে; পরিস্থিতির মোকাবেলায় কিউবায় সামরিক হস্তক্ষেপেরও হুমকি দেন তিনি, যা বিশ্বের দুই পরাক্রমশালী শক্তিকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিলে দুই সপ্তাহের ওই টানটান উত্তেজনার ‘মিসাইল ক্রাইসিসের’ অবসান ঘটে। সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভকে কেনেডি তুরস্ক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও পরে জানা গেছে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ফের মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের সময় স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইউরোপে মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ইঙ্গিত দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত ওই ‘ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ)’ চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে স্বল্প ও মাঝারিপাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। আইএনএফ থেকে সরে গিয়ে ?যুক্তরাষ্ট্র যদি রাশিয়ার কাছাকাছি ইউরোপের কোথাও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে, তাহলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের কাছাকাছি একই ধরনের কিংবা তার চেয়েও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে, বলেছেন পুতিন। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমন জায়গায় মোতায়েন করা হবে, যেখান থেকে সহজে এবং দ্রুততম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
“এগুলো (হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র) স্থির বসে থাকবে না, তারা গতিশীল থাকবে এবং (লক্ষ্যবস্তুকে) খুঁজে নেবে। আপনারা এ নিয়ে কাজ করতে পারেন, এর গতি থাকবে ম্যাচ নাইন (শব্দের থেকেও নয়গুণ বেশি), আওতা হবে ১ হাজার কিলোমিটার,” পুতিন এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
