মঞ্চ, নাটক, সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন অভিনেত্রী রুনা খান। বর্তমানে তার হাতে রয়েছে একাধিক নাটক ও সিনেমার কাজ। নিজের অভিনয় ভাবনা নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই
— পঙ্কজ পালিত পরিচালিত সরকারি অনুদানের ‘একটি না বলা কথা’ সিনেমার শুটিং ও ডাবিং শেষ করলাম। ক’দিন আগেই শেষ করেছি দুটি বিজ্ঞাপনের কাজ। হাতে রয়েছে মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফ্যামেলি ক্রাইসিস রিলোডেড’ নাটকের কাজ। চলতি মাস থেকে আবার নাটকটির দ্বিতীয় সিজন শুরু করেছি। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটক ও একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করছি। এছাড়া আরো একটি সিনেমায় অভিনয়ের ব্যাপারে কথা চলছে।
ফ্যামিলি ক্রাইসিসে নতুন পর্বে বিশেষ কী থাকছে?
একটি নাটক জনপ্রিয়তা পেলে পরের সিকু্যয়েলে আরো ভালো কিছু করার তাগিদ তো থাকেই। সেই জায়গা থেকে এবারের নাটকটিতে নতুন একটি পরিবারের গল্প থাকছে। আগের নাটকটি তো দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন, আশা করছি এবারের কাজটিও তারা পছন্দ করবেন।
মঞ্চ, নাটক ও চলচ্চিত্রে আপনার সমান পদচারণা। কোন মাধ্যমটিকে বেশি গুরুত্ব দেন?
আমার কাছে মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে অভিনয়টাই মূখ্য। সেটা যে নাটক, সিনেমা, মঞ্চ, বিজ্ঞাপন বা ওটিটি, যে মাধ্যমেই হোক। যেখানে ভালো কাজের সুযোগ পাচ্ছি বা যে চরিত্রে অভিনয়ের জায়গা আছে সেখানেই কাজ করছি।
অনেকেই অভিযোগ করেন, হিরো-হিরোইন নির্ভর ইন্ডাস্ট্রিতে চরিত্রাভিনেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
এটা তো পৃথিবীর সব দেশেই হয়ে থাকে। এটাকে আমি হিরো-হিরোইন নির্ভর বলবো না। সব দেশেই প্রেমের গল্পে তরুণদের নিয়ে যুগে যুগেই কাজ করছে সবাই। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নায়ক-নায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার কিন্তু ১০ বছর। এরপর কিন্তু আমাদের সেই জায়গা থেকে সরে আসতে হয়।
এরইমধ্যে ওটিটির কাজ শুরু করেছেন। মাধ্যমটি আপনাদের মতো চরিত্রাভিনেত্রীদের জন্য কতটা ইতিবাচক বলে মনে করেন?
হ্যাঁ, এতে কাজের ক্ষেত্র একটু বড় হচ্ছে। গল্প প্রধান্য পেলে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র প্রাধান্য পাবে এটাই স্বাভাবিক।
রুনা খান হয়ে ওঠার জার্নিটা কেমন ছিল?
আমি যেহেতু প্রডিউস করি না বা আমার পরিবারের কেউ ইন্ডাস্ট্রিতে নেই সেহেতু শুরুতে নানা ধরনের কাজই করতে হয়েছে। শুধুই একজন অভিনেত্রী হিসেবে যে কাজগুলো ভালো লেগেছে সেগুলো করেছি। এভাবেই কিছু মানুষ এখন আমাকে চেনেন এবং ভালোবাসেন।
অভিনয় নিয়ে রুনা খানের ভবিষ্যত্ পরিকল্পা কী?
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এখন আমি মনে করি প্রতিদিন টিভিপর্দায় মুখ দেখাতে চাচ্ছি না। এখন দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর মতো কাজ করতে চাই। তাতে দু-বছরের একটি কাজ হলেই সমস্যা নেই। কারণ আমার পরিবার আছে, ব্যক্তিজীবন আছে। সেখানেই সময় দিতে চাই। তাছাড়া প্রতিবছর ১০ লাখ জমা করার চেয়ে সন্তানকে সময় দেওয়া আমার কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচন ঘিরে আপনার প্রত্যাশা কী?
নির্বাচন নিয়ে আমার আগ্রহ কখনো খুব বেশি ছিল না, এখনো নেই। আমি শিল্পী সংঘের একজন সদস্য। তবে যারা নির্বাচনে লড়াই করছেন, তাদের প্রত্যেককেই সাধুবাদ জানাই। তবে এই কভিড পরিস্হিতিতে ভোট দিতে যেতে পারব কি-না, তাও বলতে পারছি না।
