বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সাদাত হোসাইনের সাক্ষাৎকার

‘পারু এখন কোথায়?—ইতি স্মৃতিগন্ধা’য় খোলাসা করতে চেয়েছি এই রুদ্ধশ্বাস প্রশ্ন’

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২১:১৪

প্রতিবছর বইমেলা শেষ হলে বাকি সময়টায় লেখক-প্রকাশকরা বইমেলার অপেক্ষায় থাকেন। কাজ শুরু করেন নতুন বই নিয়ে। কিন্তু করোনার কারণে গেলবছর বইমেলা যেন অনেকটাই নিষ্প্রাণ ছিল। এবারও করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের কারণে বইমেলা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। ইতোমধ্যেই বইমেলা শুরুর সময় পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লেখক-প্রকাশকরা বসে নেই।

প্রতিষ্ঠিত লেখকদের পাশাপাশি নবীন লেখকরাও থেমে নেই। সকলেই বই প্রকাশের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। থেমে থাকেন নি জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনও। অন্যধারা থেকে প্রকাশিত হয়েছে এ সময়ের জনপ্রিয় লেখক ও কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইনের স্মৃতিগন্ধা সিরিজের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ খণ্ড  'ইতি স্মৃতিগন্ধা’।

স্মৃতিগন্ধা’র প্রথম খণ্ড শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়ে মহিতোষ মাস্টারের পরিবারকে কেন্দ্র করে। যুদ্ধের সময় আত্নীয়স্বজন সবাই পালিয়ে আশ্রয় নেন পাশের দেশে।  কিন্তু মহিতোষ মাস্টার মা-মাটির টানে নিজের দুই মেয়েকে নিয়ে থেকে যান। কিছুদিন যেতে না যেতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাঁর বাড়িঘর দখলের জন্য নানা চেষ্টা চালায়। অন্যদিকে তাঁর মেয়ে প্রেমে পড়েছে এলাকার মুসলিম ছেলে ফরিদের। কিন্তু হিন্দু-মুসলিমের প্রেম—যা সমাজ এবং রীতি বিরুদ্ধ৷ একদিকে সম্পত্তি, অন্যদিকে মেয়ের সম্মান; এ দুইয়ে, মহিতোষ মাস্টারের জীবনে আসে কঠিন অধ্যায়। পরিবার নিয়ে মহিতোষ এক রাতে কলকাতার উদ্দেশে পাড়ি জমান। ভুবনডাঙা আর ফরিদের মায়ায় বুদ হয়ে থাকা পারু সাইরেন বাজতে থাকা ট্রেনের কামরা ধরে যাত্রা পথের সমাপ্তি টানে এক অজানা উদ্দেশ্যে। ভোরবেলায় যশোর পৌঁছে পারুকে না পেয়ে মহিতোষ বোবা কান্নায় ফেটে পড়েন৷

কোথায় গেল পারু, কার কাছে পারু? পারু এখন কোথায়, স্মৃতিগন্ধার প্রথম খণ্ড শেষ হয়েছিল এমন এক রুদ্ধশ্বাস প্রশ্নে দিয়ে। পাঠকের মনে কৌতূহল রেখে আচমকা শেষ করা স্মৃতিগন্ধার সমাপ্তি টানা হয়েছে 'ইতি স্মৃতিগন্ধা' খণ্ডে। 

সাদাত হোসাইন বলেন, ‘এই উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড অর্থাৎ শেষ খণ্ড লিখতে গিয়ে হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, আমি নিজেও যেন প্রবল উৎকণ্ঠা নিয়েই অপেক্ষা করছি পারুর জন্য। কোথায় সে, কার কাছে, কী হয়েছে তার, সঙ্গে আরো নানা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। পাঠক এখানে এসে হয়ত একটু বিভ্রান্ত হতে পারেন—লেখক কী তাহলে আগেই এসব প্রশ্নের উত্তর জানতেন, তিনি কী পরবর্তী অংশের জন্য তা রেখে দিয়েছেন! আমি ব্যাপারটা ভেবে দেখেছি। ভেবে মনে হলো, আসলেই জানতাম না। কিংবা জানলেও গল্প শেষ অবধি কোথাও না কোথাও লেখকের ভাবনার পথ ধরে হাঁটে না। সে এতোটাই স্বাধীন, এতোটাই জীবন্ত হয়ে ওঠে যে তৈরি করে নিতে থাকে নিজের পথ, গতি ও গন্তব্য। লেখককে তখন বরং তাঁর চেনা পথ, চেনা ভাবনা ছেড়ে হাঁটতে হয় গল্পের পথে। স্মৃতিগন্ধা সেই গল্পের পথে হেঁটে যাওয়া এক আখ্যান।  আর পাঠকের প্রতি বলব, লেখক হিসেবে আমি সব সময় বলি, পাঠকেরাই আমার শক্তি। তাঁদের উৎস, অনুপ্রেরণা আর কৌতূহলী আগ্রহের তাড়নায় আমি দ্রুত শেষ করতে পেরেছি ইতি স্মৃতিগন্ধা।’

অন্যদিন সাহিত্য পুরষ্কার গ্রহণ করার সময়

সাদাত হোসাইন বর্তমান সময়ের একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তিনি একাধারে কবি, লেখক, উপস্থাপক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা। নিঃসঙ্গ নক্ষত্র, আরশিনগর, নির্বাসন, অন্দরমহলের মতো পাঠক প্রিয়তা পাওয়া বইসমূহের লেখক তিনি। ১৯৮৪ সালের ২৯ শে জুন মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করা এ লেখক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেছেন। লেখালেখির জন্য হুমায়ূন আহমেদ অন্যদিন সাহিত্য পুরস্কার, মার্বেল সেরা ইনফ্লুয়েন্সার লেখক পুরস্কারসহ পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।

ইত্তেফাক/এসটিএম