একটি সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে জ্ঞানচর্চার অনুসঙ্গ হিসেবে। যে কোনো ব্যবসার মতো বইয়ের ব্যবসায়ীদেরও নানান ঘাত-প্রতিঘাত মাড়িয়ে এগিয়ে যেতে হয়। তবে এসবই হয় ব্যবসাকেন্দ্রিক। মার্কেটিং, মূলধনের যোগান, কোয়ালিটিসম্পন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নতুন ব্যবসায়ীর হিমশিম খাবার গল্পটা আমাদের খুব চেনা। কিন্তু রাজধানীর বাংলাবাজারে অবস্থিত কলি প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী এস এম মহিউদ্দিন কলির যুদ্ধটা ছিল ভিন্নরকম।
প্রকাশনা জগতে নিজের অবস্থানটা দৃঢ় করতে আর দশটা নতুন প্রকাশকের মতো কেবল পরিশ্রম করেই তার সফলতার পথ প্রশস্ত হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। একারণে চৌকস বিপণন ব্যবস্থা, উন্নতমানের প্রকাশনা, নির্ভুল ও সুসম্পাদিত পান্ডুলিপি প্রকাশের পরও প্রতি পদে পদে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অনেকে তাকে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘ব্যবসা করতে এসেছ ব্যবসা করো। রাজনীতি করতে এসো না। ধ্বংস হয়ে যাবে।’ কলি এসব কথা কর্ণপাত করেননি। শুধু নিজের ব্যবয়ায়িক সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ফলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে সরব থেকেছেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী দলের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরম্ন করে সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সব ধরণের আন্দোলনে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে দেখা গেছে তাকে।
২০২৩ সালে কলি প্রকাশনীর ব্যানারে এস এম মহিউদ্দিন কলি প্রকাশ করেন ‘নো কমেন্টস: রাতের ভোট ২০১৮’ শীর্ষক একটি বই। বইটি আওয়ামী সরকারের ভোট জালিয়াতির প্রামাণ্য দলিল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এই বইটি প্রকাশের পর বাংলাবাজার এবং নিজের বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে কলিকে। প্রশাসনিক হয়রানি ছাড়াও আওয়ামীপন্থী প্রকাশকদের অকথ্য নির্যাতন ছিল এর অন্যতম কারণ।
সবশেষে গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ নিয়ে ইতিবাচক স্বপ্ন দেখছেন এই প্রতীবাদমুখর বিপস্নবী প্রকাশক। তিনি চান আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনা করুক বইপাগলসুশিক্ষিত তারুণ্য। সেই লক্ষ্যে তার মালিকানাধীন ‘কলি প্রকাশনী’ এবং শিশুতোষ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ডাংগুলি’ থেকে চিরায়ত ও মানসম্পন্ন নতুন নতুন বই প্রকাশ করছেন।
প্রকাশনা ছাড়াও তিনি নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। সাংগঠনিকভাবে পালন করছেন জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, নিজ এলাকা পাবনার প্রয়াস পাঠাগারের সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। এ ছাড়াও স্কুল পাঠাগার, পথপাঠাগার প্রতিষ্ঠার জন্য বিপুল সংখ্যক বই অনুদান দিয়েছেন।
