শিবপুরে কাশ্মিরি আপেল কুল 

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৩২

পাঁচ ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে বরই। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। পরিপক্ব বরইগুলো দেখতে লাল আপেলের মতো। স্বাদে মিষ্টি। কাশ্মিরি আপেল কুল হিসেবে পরিচিত। কাশ্মিরি আপেল কুল দেখতে অনেকটা ছোট সাইজের আপেলের মতো।

আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল রং। অধিক পুষ্টিগুণ ও সুস্বাদু। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর নিরাপদ ও বিষমুক্ত কাশ্মিরি আপেল কুল চাষ করে প্রথম বছরেই ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পূর্বেরগাও গ্রামের লোকমান খান ও শহীদ মৃধা। তারা পেশায় গাড়ি চালক। 

শারীরিক সমস্যার কারণে লোকমান এখন গাড়ি চালাতে পারেন না। শহীদ মৃধা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তারা দুজনে ভাড়া নিয়ে ১০০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন কাশ্মিরি আপেল কুলের বাগান। পুরো বাগান জুড়েই লাল-সবুজের সমারহ।

১০০ শতাংশ জমিতে ৬০০ গাছ  কাশ্মিরি আপেল কুল, বল সুন্দরী কুলসহ ১০ জাতের চারা রোপণ করেন গত বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে। চারা রোপণের প্রথম বছরেই ফুল আসে কিন্তু তেমন ফল আসেনি। বর্তমানে বাগানের প্রতিটি গাছে আপেল কুল ঝুলছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন কাশ্মিরি আপেল কুল বাগান দেখতে আসছে। অনেকেই নতুন নতুন বাগান করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

পূবেরগাঁও গ্রামে সেলিম, আরিফুল, সানাউল্লাহ ও মোমেন খানের কাশ্মিরি আপেল কুলের বাগান রয়েছে।

কাশ্মিরি আপেল কুল চাষি লোকমান জানান, আমি পেশায় একজন ড্রাইভার। দীর্ঘদিন গাড়ি চালিয়েছি। এখন শারীরিক সমস্যার কারণে গাড়ি চালাতে পারি না। তাই দুইজনে মিলে জমি ভাড়া নিয়ে কাশ্মিরি আপেল কুলের বাগান করি। আমাদের এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা হয়েছে। বাগানে ফলন খুবই ভাল হয়েছে।

বাগান চাষি শহীদ মৃধা বলেন, সামনে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে, আশা করছি ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা কুল বিক্রি করতে পারব।

শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক জানান, উপজেলায় ১৪ বিঘা জমিতে কাশ্মিরি আপেল কুল, বল সুন্দরী কুল, বাউকুলসহ বিভিন্ন জাতের বাগান রয়েছে। আমি বিভিন্ন বাগান গিয়ে দেখে বাগান মালিকদের ভাল ফলন পাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। 

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি