নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে যানজট নতুন কিছু নয়। নিত্যদিনের যানজটে আটকা পড়ে মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার যেন কোনো উপায় নেই। তেমনি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কে পঞ্চবটি থেকে শ্যামপুরের আগ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন সকাল থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তার উপর ৫ কিলোমিটার এ সড়কে নেই কোনো ট্রাফিক পুলিশ। ফলে যানবাহন চালকরাও কে কার আগে যাবে এই প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে রং সাইড দিয়েও গাড়ি ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এতে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। এমন দৃশ্য নিত্যদিনের।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, ফতুল্লা ও পাগলা দেশের পাইকারি রড, সিমেন্ট, পাথর, ইটসহ নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসাকেন্দ্র। কিন্তু ব্যস্ত এই সড়কের যানজট নিরসনের জন্য ট্রাফিক পুলিশ নেই। স্থানীয় সহায়তায় কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশ দ্বারা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করানো হলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়।
কয়েকদিন আগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কে পাগলা বাজার এলাকায় গাড়ির জট। যানজট ছড়িয়ে গেছে অনেকদূর পর্যন্ত। যানজটে আটকা পড়া যানবাহনের মধ্যে ট্রাকই বেশি। সেই ট্রাকে রয়েছে রড, বালু, ইট। আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় এক লেনের গাড়ি অন্য লেনে ঢুকে পড়েছে। ফলে তৈরি হয়েছে যানজট। তাছাড়া সড়কের দুই পাশে এলোপাতাড়ি ট্রাক রেখে দেওয়ায় যানজট তীব্রতর হচ্ছে। চাষাড়া হতে পঞ্চবটি মোড় পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও পঞ্চবটি হতে শ্যামপুরের আগ পর্যন্ত কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। থানা থেকে পুলিশ গিয়ে যানজট স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এছাড়াও এখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে অনেক চালক তাদের আদেশ মানছে না।
পাগলা এলাকার আশরাফ বলেন, এই সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। একবার যানজট লাগলে ৪-৫ ঘন্টায়ও ছোটে না। কখনো কখনো এই যানজট গভীর রাত পর্যন্ত থাকে। ফতুল্লার দেলোয়ার হোসেন জানান, এই সড়কে শত শত যানবাহন যাতায়াত করলেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় অসহ্য ভোগান্তি পোহাতে হয় এলাকাবাসীদের। বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের পাগলা শাখার সভাপতি কাউসার আহাম্মেদ পলাশ বলেন, ‘আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে এখন যানজট কম। ট্রাক টার্মিনাল হবার কারণে যানজট আর আগের মত নেই। যতোটুকু আছে তা রাস্তার কাজ চলার কারণে।’ ট্রাফিক পুলিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মাঝে মাঝে ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায়, আবার থাকেও না। সার্বক্ষণিক দায়িত্বে কেউ থাকলে এই যানজটও থাকবে না।’ ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, সড়কে যানজট হলে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে তাদেরও হিমশিম খেতে হয়। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের এএসপি আবদুর রশিদ বলেন, জনবল সংকটের কারণে পঞ্চবটির পর হতে শ্যামপুরের আগ পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ নেই। তবে ট্রাফিক পুলিশের জনবল বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
