শেরপুর-ভবানীপুর সড়ক

সড়ক ঘেঁষে স্থাপনা নির্মাণ করায় চলাচল ব্যাহত

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০০

দখলের কারণে বগুড়ার শেরপুর-ভবানীপুর সড়কে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি এখন একটি সরু গ্রামীণ রাস্তায় রূপ নিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত রাস্তাটির দুই পাশে এখন বাড়িঘর ও কলকারখানা নির্মাণ করায় এটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়াবটতলা বাজার থেকে ভবানীপুরের আঞ্চলিক এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া, নাটোর, রাজশাহীর হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। শেরুয়া বটতলা থেকে ব্র্যাক বটতলা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোথাও এক থেকে দেড় ফুট গভীর গর্ত হয়ে জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থাপনার পানি নিষ্কাশনের মতো জায়গা না থাকায় রাস্তায় পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়কের দড়িমুকন্দ এলকার সাঁকোটি ভেঙে গেছে। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। রাস্তাটি এখন শুধু ১০ ফুট প্রশস্ত করে পাকা করা আছে। সড়কের মির্জাপুরের আড়ংশাইল মোড় থেকে শেরুয়া বটতলার দক্ষিণে আন্দিকুমড়া পর্যন্ত দুই দশমিক চার কিলোমিটার সড়কের ওপরে গত প্রায় দশ বছরে গড়ে উঠেছে ৭৬টি বসতবাড়ি। পাকাসড়কের ওপর এভাবে বসবাস যেমন তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি সড়ক দখল হয়ে পড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাস্তায় বসবাসরত সেলিম, ইসমত, কালাম জানান, চাতালে কাজ করে সংসার চালাই। থাকার কোনো জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপরই ঘর করে আছি। ছকিনা বেগম জানান, সারিয়াকান্দি থেকে এখানে এসে একটি ঘর করেছেন সাত বছর আগে। রাস্তা পাকা হলেও এখানেই বাস করতে হচ্ছে। মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, শেরপুর-ভবানীপুর সড়কের ওপর ঘরবাড়ি তৈরি করে শতাধিক পরিবার বসবাস করে, বিষয়টি আমার জানা আছে। এদের অধিকাংশই নদীভাঙনকবলিত ভূমিহীন মানুষ। তাদের পুনর্বাসন করা গেলে প্রশস্ত সড়কটি দখলমুক্ত করা সম্ভব।

শেরপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ জানান, শেরপুর-ভবানীপুর আঞ্চলিক সড়কটি কত ফুট প্রশস্ত তার সঠিক মাপ পাওয়া যায়নি। অবৈধ স্থাপনা ও মিল-কারখানা, চাতাল এবং বাড়িঘর নির্মিত হলেও আমাদের করণীয় কিছু নেই। আমরা শুধু ১০ ফুট প্রস্থ করে রাস্তা পাকাকরণের কাজ করেছি।

এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম জানান, এই সড়কটি শেরপুর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে সরকারি রাস্তা থেকে তাদের উচ্ছেদের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/ ইআ