পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার সেই কেমিক্যাল গোডাউনের ভয়ংকর বিস্ফোরণের ঘটনার মামলার চার্জশিট দিতে যাচ্ছে পুলিশ। চুড়িহাট্টার ৬৪, নন্দকুমার দত্ত রোডের ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক দুই ভাই হাসান ও সোহেল ওরফে শরীফসহ ১২ জন আসামির নামোল্লেখ করে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম বলেছেন, চার্জশিট প্রস্ত্তত। কাল অথবা পরশু আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হবে। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টার ৬৪, নন্দকুমার দত্ত রোডের ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার কেমিক্যাল গোডাউনের বিস্ফোরণ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৭১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দুই দিন পর স্থানীয় বাসিন্দা আসিফ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় একই উদ্দেশ্যে অবহেলাপূর্বক অগ্নিসংযোগের কারণে মৃত্যু ঘটানোসহ ক্ষতিসাধনের অপরাধে পেনাল কোডের ৩০৪(ক)/৪৩৬/৪২৭/৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়। মামলার বাদী আসিফের বাবা জুম্মন (৫০) অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন। মামলায় মৃত হাজি ওয়াহেদের দুই ছেলে মো. হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদসহ অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘হাজি ওয়াহেদের দুই ছেলে আর্থিকভাবে লাভবান হতে আগুন লেগে মানুষের জানমালের ক্ষতি হবে জেনেও তাদের চারতলা ফ্যামিলি বাড়ির বিভিন্ন তলায় দাহ্য পদার্থ ব্যবসায়ীদের গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেয়। আসামিদের ৬৪ নম্বর নন্দকুমার দত্ত রোডের বাড়িটির দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলায় থাকা বডি স্পে্র, পলিথিনের দানা ও কেমিক্যালে আগুন লেগে মোট ৭১ জন মানুষের প্রাণহানি হয়।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, এজাহারে যাদের নাম ছিল, তাদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে। এখানে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ টিম, ফায়ার সার্ভিস, সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিম ও প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে। যারা কেমিক্যাল রেখেছিল, কেমিক্যালের মজুত করেছিল, যারা এই মজুতের বিষয়টি তদারকি করেননি-সবাইকে আসামি করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের উত্স স্হল সেই কেমিক্যাল গোডাউন ‘পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ এর মালিক ইমতিয়াজ আহমেদকেও আসামি করা হয়েছে।
