দেশের রংপুর ও বরিশালে দারিদ্র্র্যের প্রকোপ বেশী এবং তুলনামূলক কম দরিদ্র রয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তৈরী করা ‘পভার্টি ম্যাপ’ বা দারিদ্র মানচিত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) যৌথ উদ্যোগে বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশেষ আদমশুমারী ২০১১ এবং খানার আয় ব্যয় নির্ধারণ জরিপ ২০১০ এর তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদটি তৈরী করা হয়েছে।
২০১০ সালের জরিপের তথ্যানুযায়ী, দেশের ৩২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। সে সময়ে বিভাগ ভিত্তিক দারিদ্র্যের চিত্র থাকলেও এবার জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক দারিদ্র্যের চিত্র উঠে এসেছে। দারিদ্র মানচিত্র প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেলা ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষ রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। এ জেলায় দারিদ্র্যের হার ৬৩.৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম গরিব রয়েছে কুষ্টিয়া জেলায়, মাত্র ৩.৬ শতাংশ।
দারিদ্র্য মানচিত্রের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বরিশাল বাদে বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে দারিদ্র্য মানুষের হার তুলনামূলক বেশি এবং এ অঞ্চলে প্রাথমিক স্কুল শেষ করা শিশুদের সংখ্যাও তুলনামূলক কম। একই সাথে যে অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ সে অঞ্চলের দারিদ্র্যের হারও বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে রাজধানির একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পণা প্রতিমন্¿ী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. নজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিষ্টারাডার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ সালমান জায়েদী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএস মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল।
