স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে বৈজ্ঞানিক দক্ষতা, পর্যাপ্ত আর্থিক সম্পদ এবং জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচির কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উভয় পর্যায়ের সহযোগিতাকে আরো শক্তিশালি করতে হবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য’ বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মেলনের বক্তৃতায় একথা বলেন। সংস্থার মহাপরিচালক ডা. মার্গারেট চ্যানের সভাপতিত্বে ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. ওলেগ মুসি, মালদোভার পরিবেশ মন্ত্রী মিজ্ ভ্যালেন্তিনা তাপিস, পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রী গন্জালো গুটিরেজ, গ্যাবনের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ফিডেল মেংগু এমই এনগুয়াংসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, বিশ্ব ব্যাংক, ইউএনএফসিসি, আইনা আর সির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের মহাপরিচালকের ডিজ্যাস্টার রিস্ক রিডাকশন সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি মার্গারেটা ওয়ালস্ট্রম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। জনসাধারণ ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মকৌশল প্রণয়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশে জাতীয় স্বাস্থ্য অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মানব স্বাস্থ্যকে সুরক্ষার জন্য এই পরিকল্পনা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে বাংলাদেশে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে বেশ কিছু সফল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে যা অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয়।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর একটি না হওয়া সত্বেও এর ক্ষতিকারক প্রভাবে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বায়ু দূষণের মাত্রাবৃদ্ধি, অপরিস্কার পানি ও দূষিত খাদ্যের মাধ্যমে রোগবৃদ্ধি, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়াজনিত কারণে কৃষি উত্পাদন ব্যাহতসহ নানাবিধ ক্ষতিকর প্রভাব বাংলাদেশের উপরও পড়ছে। সীমিত সম্পদের দেশ বাংলাদেশের জনগণের জন্য এই বোঝা বহন করা খুবই দুরূহ। ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবার উপরেও এর প্রভাব পড়ছে মারাত্মকভাবে।
পরে মন্ত্রী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ডা. মার্গারেট চ্যানের সাথে বৈঠক করেন। এসময় মন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়াতে সংস্থার সহযোগিতা আরো বাড়ানোর জন্য মহাপরিচালকের প্রতি অনুরোধ জানান।
সম্প্রতি আফ্রিকান দেশগুলোর ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশে গৃহীত ৯০ দিনের সতর্কতা কর্মসূচি সম্পর্কে মার্গারেট চ্যানের তিনি অবহিত করেন। এ সময়ে মার্গারেট চ্যান বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি ও ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধ কর্মসূচিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আগামী ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের ১১টি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের ৩২তম সভায় যোগদানের জন্য মোহাম্মদ নাসিম মার্গারেট চ্যানকে আমন্ত্রণ জানান। চ্যান এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলে জানান।
ইঅ/চৌফে/শ৪১৭
