গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের বীরভাগবের গ্রামে এক মহিলাকে শ্বাসরোধের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত জোসনা বেগম (৪৫) বীরভাগবের গ্রামের আবদুল বাতেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় আবদুল বাতেন বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলো বীরভাগবের গ্রামের আবদুল হামিদ (৪৮), তার স্ত্রী গোলাপী বেগম (৪৩), ছেলে রিপন মিয়া (২০) এবং আবদুল হামিদের ভাই রতন মিয়া (৪৫), তার মেয়ে রেহেনা বেগম (২০) এবং এদের প্রতিবেশী আজম আলী (৭০)। এদের মধ্যে রতন, রিপন, গোলাপী ও রেহেনা গ্রেপ্তার হয়েছে।
জানা গেছে, আবদুল বাতেন ও আবদুল হামিদ প্রতিবেশী। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে মামলা চলে আসছে। এর জের ধরে সামাজিকভাবে অপদস্থ করতে আবদুল হামিদ সম্প্রতি আবদুল বাতেনের বাড়িতে এসে তাঁর কিশোরী মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুল বাতেনের স্ত্রী জোসনা বেগম বকাঝকা করে আবদুল হামিদকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এলাকাবাসী ও জোসনা বেগমের পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবদুল হামিদের নেতৃত্বে রতন ও রিপনসহ ৮-১০ জনের একটি দল আবদুল বাতেনের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় হামলাকারীরা বাতেনের স্ত্রী জোসনা বেগমকে বাড়িতে একা পেয়ে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে জোসনাকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করেছেন বেলাব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান খান। তিনি গতকাল বুধবার বলেন, লাশের মুখ থেকে তলপেট পর্যন্ত পোড়া ছিল। ডান পায়েও পোড়া চিহ্ন। এ ছাড়া গলার নিচে ছিল দাগ।
