জামালপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটেছে। জেলার ৭টি উপজেলায় প্রায় ২লক্ষাধীক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার ১৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৫টি বিদ্যালয় বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আলীম।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ২৩ সেন্টি মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৬৫সেন্টি মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি প্রতি ঘাণ্টায় বৃদ্ধি পাওয়া ফলে পানির তোড়ে মেলান্দহ উপজেলার মুহমুদপুর পাকা সড়ক ভেঙ্গে মেলান্দহ-মুহমুদপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইসলামপুর উপজেলার ইসলামপুর শিংভাঙ্গা সড়ক এবং ইসলামপুর- গুঠাইল সড়ক বন্যার পানিতে তালিয়ে উপজেলার সদরের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বৃগস্পতিবার বিকাল ৩টা নাগাদ যমুনার পানি বিপদ সীমার ৬৫ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে পাউবো সুত্রে জানাগেছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, বকসিগঞ্জসহ জামালপুর সদর উপজেলার বন্যার পানিতে তলিয়েগেছে। বিশেষ করে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকা দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ । সরিষাবাড়ী বকশিগঞ্জ উপজেলার সাদুরপাড়া, মেরুরচর,বগারচর,ও নিলিক্ষিয়া ইউনিয়ন, জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষীরচর, ইউনিয়ন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় নতুন করে প্লাবিত হয়ে প্রায় ২ লক্ষাধীক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হচ্ছে। এ সকল এলাকা মানুষসহ গৃহপালিত পশু , গরু, ছাগল হাঁস, মুরগি পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত মানুষ উচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের স্থানীয় এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল জরুরি ভিক্তিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জেলা প্রশাসক শাহাবউদ্দিন খান জানান, এ রিপের্ট লিখা পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকা দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর ও সরিষাবাড়ি ৩ উপজেলায় ৩৩মেঃ টন চাল এবং ৫ লাখ টাকা শুকনো খাবার (চিড়া-গুড়) বিতরণ করেছেন
বন্যা দুর্গতরা জানায়, এসব ত্রাণ অপ্রতুল।
