শাবির অধ্যাপককে কুপিয়ে জখম: শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৪, ১৮:২৭
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান  অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন একই বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী।  হামলাকারী শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সমাজকর্ম বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক নিয়াজ আহমদকে  সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ব্যাপারে রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। 
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে সমাজকর্ম বিভাগের নিজ কক্ষে বসেছিলেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ।  এমন সময় হঠাৎ করে এসে ওই শিক্ষকের ওপর হামলা করে ওয়েস আহমদ। চাপাতি দিয়ে সে কোপাতে থাকলে শিক্ষক নিয়াজ আহমদ দৌড়ে পাশ্ববর্তী অর্থনীতি বিভাগের অফিস কক্ষে এসে আশ্রয় নেন। দায়ের কোপরে আঘাতে ওই শিক্ষকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। আহত ড. নিয়াজের মাথায় বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 
তিনি  আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. তন্ময় ভট্টাচার্য । 
এ ঘটনার পর ওয়েসকে শিক্ষার্থীরা আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে। পরে হামলাকারী শিক্ষার্থী আহত হলে তাকেও ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশি হেফাজতে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 
এ ঘটনার প্রতিবাদে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে ভিসি ভবনও প্রদক্ষিণ করেন। পরে ভিসি ভবনে তালা দেয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এসে তাদেরকে শান্ত করেন। 
এদিকে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উত্তম কুমার দাশ দাবী করেছেন, ওয়েস শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। এ ঘটনার পেছনে ইন্ধনদাতাদের খুজেঁ বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। 
বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, হামলাকারী ওয়েছ আহমদ শিবিরের কেউ নয়। তার সাথে শিবিরের কোন সম্পৃক্ততা নেই। 
শাবির ভিসি প্রফেসর ড. মো: আমিনুল হক ভুইয়া ইত্তেফাককে বলেন, হামলাকারী শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। 
জালালাবাদ থানার ওসি গৌছুল হোসেন বলেন, আটক শিক্ষার্থী পুলিশী হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।