নবম সংসদে যখন সংসদীয় কমিটিতে বিচারকদের অভিশংসন সম্পর্কিত সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ ’৭২ এর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা নিয়ে কথা হয়েছিল, তখন বিএনপি নেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ‘৯৬ অনুচ্ছেদ হুবহু ফিরিয়ে আনা হলে আমরা পূর্ণ সমর্থন দেব’ বলেছিলেন। এই দাবি করলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য দেন। প্রসঙ্গত, নবম সংসদেও একই কমিটির সভাপতি ছিলেন সুরঞ্জিত, মওদুদ আহমদও ওই কমিটির সদস্য ছিলেন। এ দিকে, আজ বৈঠকে সংবিধানসংশ্লিষ্ট ৪৯টি আইন দ্রুত প্রণয়নেরও তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি
মওদুদ আহমদের আগের অবস্থান তুলে ধরে সুরঞ্জিত বলেন, এখন তারা (বিএনপি) বলছেন আরেক কথা। তাদেরই ঠিক করতে হবে, কোনটা সমর্থন করবেন। তার মতে, ৯৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে বিএনপি যে কথা বলছে, এটি কোনো সাংবিধানিক কথা নয়। তাদের বক্তব্য অনৈতিক, অনুচিত, এটি তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য।
এক প্রশ্নের জবাবে কমিটি সভাপতি বলেন, নবম সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় ৯৬ অনুচ্ছেদ ’৭২ এর অবস্থায় হুবহু ফিরিয়ে না নেয়া ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল। এই অনুচ্ছেদটি না থাকায় সংবিধান পূর্ণতা পায়নি।
এ দিকে, আজ বৈঠকে সংবিধানসংশ্লিষ্ট ৪৯টি আইন দ্রুত প্রণয়নেরও তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ বিষয়ে সুরঞ্জিত বলেন, এ আইনগুলো না থাকলে সংবিধান সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে না। এতে শূন্যতা তৈরি হয়। যেমন- জাতীয় সংগীত সংক্রান্ত আইন নেই। এ কারণে যে যার মতো করে জাতীয় সংগীত গায়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক আইনও নেই। প্রসঙ্গত, এই সংবিধানে নির্বাচন কমিশনার ও বিচারপতি নিয়োগ আইনও নেই।
৯৬ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত বিএনপির বিরোধিতার বিষয়ে কমিটি সভাপতি বলেন, জুডিসিয়াল কাউন্সিল তাদের এত প্রিয় কেন? কারণ, এর ‘ফাউন্ডার ফাদার বিএনপি’। তারা চেয়েছিল, তদানিন্তন পাকিস্তানি আইনগুলো বাস্তবায়ন করতে। তিনি বলেন, বিএনপির বিরোধিতা অন িপ্রেত, তবে কোনো আইন পাস হওয়ার আগে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হওয়া ভালো। এটা গণতান্ত্রিক সচেতনতারই অভিপ্রায়। জবাবদিহিতার প্রস তুলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সংসদের কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। সেখানে বিচারকদের সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফরিয়ে দেয়া সংক্রান্ত বিল উঠছে কিনা, জানতে চাইলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন- আসা উচিত। যদি কমিটিতে আসে, তাহলে অগ্রাধিকার দিয়ে এটি পাস করানো হবে। পাস করার আগে কমিটি ভিন্নমত পোষণকারী সব শ্রেণীর লোকদের মতামত নেবে।
বৈঠকে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়। বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলেছে কমিটি। গত ৯ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলা জজের দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মডেল দেখতে সংসদীয় কমিটি সেখানে গিয়েছিল জানিয়ে কমিটি সভাপতি বলেন, সেই পরিদর্শনের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে ময়মনসিংহ জেলা জজ, দায়রা জজ ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত সব সদস্যকে বৈঠকে এনে তাদের কাজের মডেল চাওয়া হবে। কীভাবে তারা দ্রুত সময়ে এত মামলা নিষ্পত্তি করলো, এই মডেল পরবর্তীতে সব জেলায় বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
কমিটি সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য- কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল হক মৃধা ও সফুরা বেগম।
ইঅ/চৌফে/শ৪৭৭
