রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৭ কাউন্সিলর দায়ী

রাস্তা সংস্কারের এক মাসেই ধ্বংস!

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৪, ০৬:০২

গত জুলাই মাসের শেষের দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৭ কাউন্সিলর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের রাস্তা সংস্কারের কাজ করেন। মাত্র এক মাস পার হতে না হতেই সংস্কার করা রাস্তার কার্পেটিং উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ আছে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ নিয়ে নিম্নমানের কাজ করতে বাধ্য হওয়ার কারণে সে সময় একজন কাউন্সিলর তাঁর ওয়ার্ডে এই কাজ বন্ধ করেও দেন।

সিটি করোরেশন থেকে জানা গেছে, নগরের রেলগেট থেকে তালাইমারী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সমঝোতার মাধ্যমে তিন কোটি ৭০ লাখ টাকার এই কাজ ‘বর্ষণ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। এর স্বত্বাধিকারী হচ্ছেন রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানা বিএনপির নেতা শফিকুল ইসলাম শাফিক। সমঝোতা অনুযায়ী তাঁর কাছ থেকে এই কাজ ভাগ-বাঁটোয়ারা করে শেষ করেছেন সিটি করপোরেশনের ১৭ জন কাউন্সিলর।
নগরের যে কয়েকটি ওয়ার্ডে কাজ হয়, সেগুলোতে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়। অতিমাত্রায় নিম্নমানের কাজ করার কারণে ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান গত ২৬ জুলাই সকালে তাঁর এলাকার কাজ বন্ধ করে দেন।
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হককে অভিযোগ সম্পর্কে জানালে তিনি রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ব্যাপারে বলেন, ওই ঠিকাদারের কাজ শেষে হয়নি। তাঁর বিলও পরিশোধ করা হয়নি। তাঁরাই আবার ওই রাস্তা ঠিক করে দেবে। বৃষ্টির কারণে এখন পরিবেশ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, আগের রাস্তার ওপর কার্পেটিং করার কারণে এমনটি হয়েছে। আগের রাস্তা কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু ছিল। এ জন্যই উঠে যাচ্ছে।
আর কাজ ভাগ-বাঁটোয়ারা করার ব্যাপারে তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমেই বর্ষণ এন্টারপ্রাইজ কাজ পেয়েছে। তিনি কাজের মানও বুঝে নিচ্ছেন। এখন যদি বর্ষণ এন্টারপ্রাইজ কাউন্সিলরদের দিয়ে কাজ করায় তাহলে আইনের দৃষ্টিতে তাঁদের কিছু বলার নেই।