সম্পাদক পরিষদের আলোচনা সভা

সম্প্রচার নীতি গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করবে

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৪, ২০:০৯
সমপ্রতি মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া সমপ্রচার নীতিমালা গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করবে বলে মনে করছেন দেশের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, এই নীতিমালা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। গণমাধ্যমের জন্য অপ্রত্যাশিত। এ জন্য সবাইকে এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করে গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নীতিমালা বা আচরণ-বিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। সভা পরিচালনা করেন দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।
মূল প্রবন্ধ মাহফুজ আনাম বলেন, এই নীতি গনমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করবে, গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্থ হবে। অবিলম্বে স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠন করে তাদেরকে নীতিমালা তৈরি করতে সুযোগ দেয়ার আহবান জানান তিনি।
আলোচনায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আমরা অনেক বিপদের মধ্যে আছি। এর মধ্যে সম্প্রচার নীতিমালা একটি বিপদ-এমনকি আপদও। গনমাধ্যমের উপর যে আক্রমন আসছে তার কারণ সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য নেই। পাকিস্তান আমলে গনমাধ্যমের উপর আক্রমন হলেও সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত নীতিমালা খুবই অপ্রত্যাশিত। কোন জরুরি অবস্থা বা সামরিক শাসনের জারি হয়নি যে গনমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এমনিতেই আমাদের দেশের গনমাধ্যম মালিক, বিজ্ঞাপন, সরকার ও নিজস্ব নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তার মধ্যে নতুন এই নিয়ন্ত্রন নীতিমালা করা হলো। সরকার নিজে দৃষ্টিহীন না হতে চাইলে গনমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে। এই নীতিমালা গনমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করবে। এই নীতিমালা অত্যন্ত ভয়ংকরা। সবাইকে প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রত্যাখান করা উচিত।
ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, এই নীতিমালা দ্রুত করা হয়েছে। এটি করতে যারা উত্সাহ দিয়েছে তারা সরকারকে যে পরিমান ক্ষতি করেছে তা গনমাধ্যম করতে পারত না। যারা এই নীতিমালা করতে উত্সাহ দিয়েছেন তারা সরকারের বন্ধু কি না ভেবে দেখা দরকার। এই নীতিমালায় গনমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সমাজে সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে-এটার বাস্তব ভিত্তি কি ?। গনমাধ্যম সংশ্লিষ্ঠরা নীতিমালা তৈরি করুন, কমিশন গঠন করুন, দেখবেন সবাই সেটি গ্রহন করবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা ছাড়াও গনমাধ্যমের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সব প্রতিষ্ঠানের আলাদা নীতিমালা থাকা দরকার। কিন্তু সেটি না থাকার সুযোগে সরকার সম্প্রচার নীতিমালা করে চাপিয়ে দিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম সারওয়ার বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালা সম্মিলিত প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে অচল হয়ে গেছে। নীতিমালা না করে বলতে পারত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মতো চলো। গনমাধ্যম অনেক শক্তিশালী। সকলের জন্য অভিন্ন কোনো আচরণবিধি করা যায় কি না, সম্পাদক পরিষদের আগামী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সাধারণ সম্পাদক শাইখ সিরাজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ, অপর অংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম মুনায়েম, সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ জে শফিউল আলম ভুঁইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল বাবু, এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ জ ই মামুন এবং এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ মুন্নী সাহা প্রমুখ।
 
ইঅ/চৌফে/শ৫০৯