পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য বিদেশি অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বিদেশি সহায়তা নেয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন খাতকে গুরুত্ব দেয়া হবে— উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তা নির্ধারন করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে সব দেশ অনেক সময় তাদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারে না। যেসব দেশ অর্থ সহায়তা দেয় এক্ষত্রে তাদেরও কিছু অগ্রাধিকার থাকে। আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে নগর গবেষণা কেন্দ্র ঢাকার ৪২তম সাধারন সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিরি বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ সব কথা বলেন।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, একসময় আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাত্র ৩০ ভাগ আসতো গ্রাম থেকে। এখন নগরায়ণের ফলে মোট অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ৬০ ভাগ শহরকেন্দ্রিক। শুধু শহর নয়, যে কোন উন্নয়ন টেকসই রাখতে হলে পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। শুধু শহর নয়, ব্যাক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রে পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে পরিকল্পনা প্রণনয় করা প্রায় দূরুহ। কারণ, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তার জন্য দাতাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আমরা যদি নিজস্ব প্রচেষ্টায় চলতাম তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, আমাদের সমস্যা কি তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু অগ্রাধিকার নির্ধারন করে আমাদেরকে সে সব সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমাদের হতাশ হলে চলবে না, কাজ করে যেতে হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মোট দেশজ উত্পাদরে প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) বাংলাদেশের চেয়ে কম। এ সব দেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে হলেও বাংলাদেশে তা ৫ শতাংশের ওপরে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি নতুন বাংলাদেশ জেগে উঠছে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সরকার নতুন এসব চর ধরে রাখতে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বছর সেখানে প্রায় চার কোটি গাছ রোপণ করা হবে বলে তিনি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে নগর গবেষনা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ভিশনের প্রয়োজন রয়েছে। আশার কথা এই যে, পরিকল্পিত নগরায়ণের বিষয়টি পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ন ধাপ হচ্ছে স্বনির্ভর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এ ক্ষেত্রে তরুণ গবেষকরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নগর গবেষণা কেন্দ্রের অবৈতনিক সম্পাদক ড. নুরুল ইসলাম নাজিম। দেশাত্ববোধক গান দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মোট ৫টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
ইঅ/চৌফে/শ৩৬২
