ইঙ্গিতটা অনেক আগেই দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। যদিও সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা কমানোর আগেই এশিয়া গেমসের জন্য ক্রিকেট দল ঘোষণা করা হয়ে গেছে। তারপরও সোহাগ গাজীর সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের কারণে সাকিবকে দলে নেয়ার একটা সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
বিসিবি ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) আশাবাদী যে, যৌক্তিক এই কারণে সোহাগের বদলি নেয়ার সুযোগ পাবেন তারা। ফলে এশিয়ান গেমসের বর্তমান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের হয়ে প্রায় দু’মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন বর্তমান বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডার সাকিব।
গত ৭ জুলাই কোচ চন্দিকা হাতুরুসিংহের সাথে খারাপ ব্যবহার, জাতীয় দলের হয়ে না খেলার কথিত হুমকি ও একজন দর্শককে মারধরের মতো আচরণগত সমস্যার প্রেক্ষিতে সাকিব আল হাসানকে ছয় মাসের জন্য সকল ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করে বিসিবি। এছাড়াও আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার বিদেশে খেলার অনুমতিও বাতিল করে বোর্ড।
এই নিষেধাজ্ঞার পুনর্বিবেচনার জন্য সাকিবের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৬ আগস্ট তার শাস্তি কমিয়ে আনা হয়। বলা হয় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার জন্য সাকিবের ওপর আর কোন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে দেশের বাইরের বিভিন্ন লিগে খেলার ব্যাপারে বোর্ডের যে দেড় বছরের আপত্তি, সেটি এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।
এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সাকিব আসছে এশিয়ান গেমস ও জিম্বাবুয়ে সফরেই খেলার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও অংশ নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ দল যেহেতু এশিয়ান গেমসে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে সরাসরি খেলবে তাই, সাকিবের খেলায় কোন বাধা নেই। সমস্যা হল, ঘোষিত দলে তাকে ঢোকানো। এমনিতে কেউ ইনজুরিতে পড়লে একটা সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এর মধ্যে সন্দেহজনক বোলিংয়ের দায়ে আইসিসি পরীক্ষাগারে যেতে হওয়া সোহাগ একটা সুযোগ এনেই দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সোহাগের প্রতিটি বলকে সন্দেহজনক বলে ঘোষণা করে আইসিসি। এরপর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর কার্ডিফের পরীক্ষাগারে তার পরীক্ষার দিন ঠিক হয়। সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে আগামী ১ তারিখ সকালে তিনি দেশে ফিরে আসবেন। উদ্দেশ্য ঢাকা থেকে ইংল্যান্ডের ভিসা নিয়ে ১৯ তারিখের আগে সেখানে পৌঁছানো। ফলে এর মধ্যে সোহাগের পক্ষে আইনি সুযোগ থাকলেও বাস্তব কোন সুযোগ নেই খেলার।
যদিও এশিয়ান গেমসের আয়োজক অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) খেলোয়াড় বদলিতে আইসিসির এই নিষেধাজ্ঞা ও পরীক্ষা কোন ক্যাটাগরি হিসেবে নেই। তবে এক কর্মকর্তা বললেন, পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওসিএ এই অনুমতি দিতে পারে। সে লক্ষ্যে আজই হয়তো বিসিবি একটি আবেদন পাঠাবে বিওএ মারফত।
