গাজায় হামলার নিন্দা সংসদে

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২৩:৩৬

দশম সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের দখল করা ভূমি ফেরত এবং এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে সংসদ। উল্লেখ্য ইসরায়েলের ৫১ দিনের অভিযানে দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “ফিলিস্তিনির পাশে কেউ না থাকলেও বাংলাদেশ থাকবে।” গাজায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার সঙ্গে তুলনা করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সববেদনা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমরা প্যালেস্টাইনি ভাই-বোনদের সাথে আছি। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। দরকার হলে বাংলাদেশে নিয়ে এসে চিকিৎসা করব। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।”
ইসরায়েলি অভিযানে হতাহত শিশুদের ছবি দেখিয়ে সংসদ নেতা বলেন, এই শিশুরা কী অপরাধ করেছে? “কত ছবি দেখাব? শুধু লাশ আর লাশ। আমি জানি মাননীয় স্পিকার, এটা সহ্য করা যায় না।”
ইসরায়েলি অভিযান প্রশ্নে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে নির্লিপ্ততার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন, তারা এখন চুপ। যারা আমাদের দেশে কিছু হলে চিঠি পাঠায়, তারাও চুপ। “মানবাধিকারবিরোধী অপরাধীর ফাঁসি ঠেকাতে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসংঘের মহাসচিব ফোন করেন, এখন তারা কোথায়?”
বেশ কয়েকটি ছবি দেখানোর পর হামলায় আহত শিশুদের একটি ছবি দেখিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এই ছবি দেখার পর আর বক্তৃতা দেয়া যায় না। “ইসরায়েলের প্রতি ধিক্কার জানাই, নিন্দা জানাই। যারা ইসরায়েলকে সমর্থন করছে- তা প্রত্যাহার করুন। এই হামলার জন্য তাদের বিচার করা উচিত।”
ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার পরও মুসলিম বিশ্ব সরব না হওয়ারও সমালোচনা করেন ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। “আমার অবাক লাগে, মুসলিম উম্মা কেন চুপ? কিসের ভয়? মুসলিম উম্মা এক হলে ইসরায়েল এই আক্রমণ চালাতে পারত না।”
মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্কট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা বললে, ওটা বললে- চলবে না। কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত,  স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, তাহজিব আলম সিদ্দিকী, পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশীদ, রুস্তম আলী ফরাজী, হাছান মাহমুদ, এস এম আবুল কালাম আজাদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, ফজলে হোসেন বাদশা, নজীবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, মইনুদ্দিন খান বাদলও এই আলোচনায় অংশ নেন।