ঐশী রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আরো ২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৮:১৬
 
পুলিশের স্পেশাল  ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আরও ২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হকের আদালতে সাক্ষ্য দেন জব্দ তালিকার দুই সাক্ষী বজলুর রহমান ও সাঈদ আহমেদ। ঐশীর পক্ষে তার আইনজীবী মাহবুব হোসেন রানা সাক্ষিদের জেরা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক আগামি ৯ ও ১১ সেপ্টেম্বর বাকী সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য করেছেন। এ নিয়ে ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।
গত ৬ মে ঐশীসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। অপর আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মামলাটি শিশু আদালতে বিচার চলছে। গত ২০ মে সুমির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন শিশু আদালতের বিচারক জাকিয়া পারভিন। এর পরই তিনি সুমিকে জামিন দেন। গত ১ জুন গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে মা সালমা বেগমের জিম্মায় জামিনে মুক্তি পেয়েছে সে। গত ৯ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ঐশীসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় দেওয়া চার্জশিট থেকে জানা গেছে, ঐশীকে অবাধ স্বাধীনতা দেওয়ায় সে বাইরের পরিবেশের প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে নিজ পরিবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মা-বাবার শাসনকে অমানুষিক আচরণ হিসাবে সে গণ্য করতো। খুনের ঘটনার ২/৩ মাস আগে ঐশী তার ড্যান্সমাস্টার জনির সঙ্গে দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এ জন্য ঐশী তার বাবার কাছে ৩০ হাজার টাকা চায়। কিন্তু ঐশীর পিতা মাহফুজুর রহমান মেয়েকে দুবাই যেতে নিষেধ করেন। এর ১ মাস আগে ঐশী তাদের চামেলীবাগের বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধু জনির সঙ্গে রামপুরা এলাকায় বাসা সাবলেট নিয়ে ১৫ দিন বসবাস করে। ওই সময়ই বন্ধু জনির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে পরিবারের প্রতি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং মা-বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। খুনের ঘটনার দিন পনের আগে সে বাসায় ফিরে আসে। এবার তার অবাধ চলাচল ও মোবাইলে ব্যবহারের ওপর বিধি নিষেধ আরোপিত হয়। ঐশী তার ড্যান্সমাস্টার জনির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মুক্ত জীবন যাপনের জন্য দুবাই যেতে টাকার প্রয়োজনে মা-বাবাকে খুনের পরিকল্পনা করে। এ পরিকল্পনার কথা সে বন্ধু জনিকে জানায়। জনি তাকে খুন করতে প্ররোচিত করে এবং আশ্রয় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। ঐশী ও জনির বন্ধু রনি খুনের পরিকল্পনার কথা জানতো। ঐশী তার মা-বাবাকে খুন করার পরও তাকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে খুনের কথা গোপন করে তার দূর সম্পকের্র এক খালার কাছে ঐশীর থাকার ব্যবস্থা করে।
গত বছরের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে। গত বছরের ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে ঐশী জবানবন্দি দেয়। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল দাবি করে ৫ সেপ্টেম্বর স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। আদালত তা নথিভূক্ত রাখার নির্দেশ দেন।
ইঅ/চৌফে/শ৪৪২