মাসুদের সাড়ে ৯টায় পরীক্ষা শুরু হবে। ঘড়িতে এখন প্রায় ৯টা বাজে। আধা ঘণ্টার ভিতরে ইউনিভার্সিটিতে পৌঁছাতে হবে। মাসুদ সিঁড়ি দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে নিচে নামছে। দুই তলায় আসার পর সে একটা মেয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেলো। মেয়েটা ভাবল ধাক্কা খাওয়ার জন্য মাসুদ স্যরি-টরি বলবে হয়তো। মেয়েটা সিঁড়ির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে রইল। মাসুদ স্যরি-টরি না বলেই দৌড়ে চলে গেল। আলগা ভদ্রতা দেখানোর সময় এখন নেই। পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে।
পরীক্ষা শেষ হতেই দুপুরের দিকে মাসুদ মেসে ফিরে এলো। গোসল করে কাপড়-চোপড় রোদে দেওয়ার জন্য সে ছাদে গেল। মাসুদের খেয়াল হলো, ছাদে একটা মেয়েও রোদে কাপড় শুকাতে দিচ্ছে। আড়চোখে সে মেয়েটার দিকে তাকাল। সেই মেয়েটা! সকালে যার সঙ্গে সিঁড়িতে ধাক্কা খেয়েছিল। মেয়েটা বেশ সুন্দরী। তখন পরীক্ষার তাড়া ছিল বলে ঠিকমতো দেখতে পায়নি। মেসে থাকা ব্যাচেলর ছেলেদের ছাদে কাপড় শুকাতে দিতে আসা মেয়েদের ব্যাপারে আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না এমনিতেই। তারওপর মেয়েটা যদি হয় খুব সুন্দরী, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। ব্যাচেলরদের আর পায় কে! মাসুদ মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেল।
‘হাই আমি মাসুদ। ওই যে সকালে আপনার সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিলাম।’
‘খুব ভালো কাজ করেছেন! তো আমি কী করব?’ রাগী গলায় মেয়েটা বলল।
মাসুদ চালাক ছেলে। মেয়েটার এরকম রাগের কারণটা বুঝতে তার বেশি সময় লাগল না। মাসুদ বলতে লাগল, ‘আসলে সাড়ে নয়টায় পরীক্ষা ছিল তো। আমি ঘুম থেকে দেরি করে ওঠায় পরীক্ষা মিস করার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তাই ওমন ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছিলাম। বাই দ্য ওয়ে, স্যরি ফর দ্যাট।’
মেয়েটা এবার একটু মুচকি হাসি দিয়ে বললো, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে।’
কথার পিঠে কথা মাসুদ ভালোই বলতে পারে। সাজিয়ে গুছিয়ে সে আরও কিছু বলতে যাবে। মেয়েটা তাকে সেই সুযোগটা আর দিল না। তার আগেই সে সিঁড়ি দিয়ে টপাটপ নিচে নামতে শুরু করল।
ওই দিনের পর থেকেই মাসুদ আর শান্তা প্রায় নিয়মিতই ছাদে আসা-যাওয়া করত। তাদের প্রেমের কাহিনির শুরুটা ঠিক এভাবেই।
চুটিয়ে প্রেম করতে করতেই মাসুদের মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়ার সময় চলে এলো। ভালো করে পড়াশোনা করে মাসুদ আস্তে আস্তে মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়া শেষ করল। কিছুদিনের মধ্যে ছোটোখাটো একটা চাকরিও জুটে গেল তার কপালে। শান্তাকে বিয়ে করার ব্যাপারে এবার আর নিশ্চয়ই কোনো বাধা নেই। কিন্তু প্রেমের মধ্যে বাধা থাকবে না, তা কেমন করে হয়!
শান্তার কাছ থেকে জানা গেল, ওর নাকি আগে থেকেই পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক করা। শান্তা এও জানাল যে, ওদের প্রেমের কথাটা ওর বাবার কান অবধি পৌঁছালে বিরাট একটা গণ্ডগোল বেঁধে যাবে! শেষবেলায় এসে দেখা যাবে, শান্তা আর মাসুদের হতে পারছে না।
মাসুদ চালাক ছেলে। সে কোনো ধরনের গণ্ডগোলে জড়াতে চাইল না। পরদিন খুব ভোরেই মাসুদ আর শান্তা পালিয়ে গেল।
রাতের দিকে শান্তার কথিত বাবা রহমান সাহেবের কাছে শান্তা আর মাসুদের পালিয়ে যাওয়ার খবরটা পৌঁছালো। খবরটা শোনার পর থেকেই রহমান সাহেব উচ্চৈঃস্বরে হাসছেন। তিনি বারবার একটা কথাই ভাবছেন, ওরকম নামীদামি একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স পাস করা একটা ছেলে এতটা বোকা হতে পারে কী করে? আফসোস মাসুদের জন্য! শান্তা যে আমাদের বাসার কাজের বুয়া ছিল, এই তথ্যটা আর ওর জানা হলো না। আফসোস মাসুদ নামের বোকা সেই ছেলেটার জন্য, আসল গণ্ডগোলের ব্যাপারটাও আর শেষ পর্যন্ত যার জানা হয়ে উঠল না। তবে মাসুদের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা রইল। ওর কল্যাণেই তো শান্তা মেয়েটার একটা ব্যবস্থা হলো। যাহোক, মেয়েটা কিন্তু দেখতে শুনতে অতটা খারাপ ছিল না!
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
