বগুড়ায় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্ষন্ত আধাবেলা হরতালের ডেকছে জেলা বিএনপি। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে আটক জেলা যুবদল সভাপতিসহ ১১ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এই হরতাল ডাকা হয়। বিএনপির বগুড়া শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরি হিরু বিষয়টি নিশ্চিত করেছনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানা যায়, বুধবার ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের প্রতিবাদে বগুড়া জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বুধবার বেলা ৩ টারদিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ঐ মিছিল শেষে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ৫ টি ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ৩ টি ককটেল বিস্ফেরিত হয়ে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ খান রনি, গাবতলী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জাফরু পাইকাড়, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম হোসেনসহ ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদেরকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ তাত্ক্ষনিক অভিযান চালিয়ে শহর বিএনপি অফিসের সামনে থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ারসহ বিএনপির ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করে।
এদিকে ককটেল হামলার পরপরই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং বিএনপি কার্যালয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় মিছিলকারীরা জেলা ও শহর বিএনপি অফিসে হালমা চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর তারা শহরের বিভিন্ন সড়কে থাকা বিএনপির বেশকিছু ব্যানার, তোরণ ও ফেস্টুন ভাংচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ ব্যাপরে বগুড়া শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরি হিরু বলেন, কে বা কারা আওয়ামী লীগ অফিস লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই সরকারি দলের নেতা কর্মীরা পুলিশের সামনে শহর ও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ভাংচুর চালিয়ে অগ্নি-সংযোগ করেছে। সেইসাথে জেলা যুবদল সভাপতিসহ ১১ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জেলায় অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুর রহমান জেলা যুবদল সভাপতিসহ ১১ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যাচাই বাছাই শেষে ককটেল হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে জেলা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ।
