বাকি আতংক!

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৯

সৈকত ভাই আমাদের এলাকার বড় ভাই। এমন কোনো দোকান নেই, যেখান থেকে তিনি বাকি নেননি। সবাই তার কাছে টাকা পাবে। এই ভয়ে তিনি সবসময় গোপনে চলাফেরা করেন। দিনে তাকে মোটেও দেখা যায় না। রাতে একটু-আধটু বের হন। আজ তিনদিন যাবত তিনি আমার রুমে আত্মগোপন করে আছেন। সারাদিন সৈকত ভাইয়ের সময় কাটে না, তাই সৈকত ভাইকে একটা ফেসবুক আইডি খুলে দিলাম। সময়টা এখন তিনি ফেসবুকেই কাটান।

সময়টা বিকেল। ঘুমাচ্ছিলাম। পিঠে লাঠির স্পর্শে ঘুম ভেঙে গেল। সৈকত ভাই দেখছি লাঠি হাতে নিয়ে আমাকে বলছেন, ‘আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। তুই ফেসবুক খুলে দিয়ে আমাকে ধরা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিস? আব্দুল কুদ্দুস তো আমাকে এখন ফেসবুকে খুঁজতেছে!’

আমি সৈকত ভাইয়ের কথা কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হলো?’

আমাকে মোবাইল দেখিয়ে সৈকত ভাই বললেন, ‘এই দেখ রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানদার আব্দুল কুদ্দুসের দোকান থেকে ৭ প্যাকেট বেনসন সিগারেট, আর ১৩টা চা খাইছিলাম টাকা দেইনি তাকে। এখন দেখ ফেসবুকে “আব্দুল কুদ্দুস” May you know আসলো, শেষ পর্যন্ত সে আমাকে খুঁজতে খুজতে ফেসবুকে চলে আসছে।’

আমি থাকিয়ে দেখি আব্দুল কুদ্দুস চায়ে চামচ নাড়তেছে ফেসবুক প্রোফাইলে। আমি সৈকত ভাইকে বোঝানোর আগেই আমার ওপর ধোলাই শুরু হয়ে গেল। পরবর্তীতে আমি কোথায় থাকতে পারি, সেটা নিশ্চয় আন্দাজ করতে পারছেন?

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম