‘ধর্মীয় উগ্রবাদীরাই পরিকল্পিতভাবে ফারুকীকে হত্যা করেছে’

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০৩:৩০

২৭শে অগাস্ট রাতে রাজাবাজারের বাসায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হাতে নিহত হন টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নূরুল ইসলাম ফারুকী। ফারুকী খুন হওয়ার এক সপ্তাহ পর তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। ফারুকীর সন্তানরা আজ বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মতাদর্শগত বিভেদের কারণেই তাদের পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। ফারুকী হত্যা তদন্তের ব্যাপারে পুলিশ বলছে, তদন্ত একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে পরিবারের এই অভিযোগসহ আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফারুকী হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে যে মামলা করা হয়েছিলো তাতে মূলত ডাকাতির বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছিল। কিন্তু আজ নিহত ফারুকীর পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে ডাকাতি নয়, ধর্মীয় উগ্রবাদীরাই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তার ছোট ছেলে ফয়সাল ফারুকী বলেছেন, "উগ্রপন্থী দল যারা আছে তারাই আব্বুর মতাদর্শের বিরোধিতা করতো, এটা তাদেরই কাজ।" তার বাবার কোন ব্যবসায়িক, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত শত্রু ছিলনা বলে তিনি উল্লেখ করেন। কাউকে সন্দেহ করছেন কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সন্দেহজনকভাবে কারো নাম বলতে পারছিনা। তবে পুলিশকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ফারুকীর সন্তানদের একজন আহমেদ রেজা ফারুকী বলেন উগ্রপন্থীরা তার পিতাকে আগে থেকেই নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলো। তবে মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তারা কোন ইসলামিক দল বা ব্যক্তির নাম বলবেন না বলে জানান তিনি। নিজের করা মামলায় প্রথমে ডাকাতির কথাই বলা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “সে মামলায় ডাকাতির কথাও বলা হলেও এখন সেটি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। কারণ আমরা মনে করছি এটি ডাকাতির বিষয় নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের মুখপাত্র মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা কোন সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিইনা। সবগুলোই তদন্তের স্বার্থে বিবেচনায় নেয়া হবে।" পরিবারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ রেজা ফারুকী অবশ্য ওই ঘটনার পর থেকে এ বিষয়ে পুলিশ ও অন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে পুলিশ বলছে এ মামলার বিষয়ে তদন্ত একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মাসুদুর রহমান বলেন অনেকগুলো বিষয়কে সামনে রেখেই তদন্ত চলছে এবং তাতে নিহতের পরিবারের দেওয়া তথ্যগুলোও যথাযথ গুরুত্ব পাবে।
(বিবিসি)