সংসদে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রীর তালিকা প্রকাশ

বিদ্যুতে বকেয়া ৮০৬ কোটি টাকা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২০:৩২
 
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আধাসরকারী-স্বায়ত্ত্ব্বশাসিত সংস্থাগুলোর কাছে প্রায় ৮০৬ কোটি টাকা বিদ্যুত্ বিল বকেয়া। এরমধ্যে সরকারের ২০টি মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া ৪০১ কোটি টাকা। আর আধাসরকারী-স্বায়ত্ত্ব্বশাসিত বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাওনা প্রায় ৪০৫ কোটি টাকা।
 বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম. আব্দুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। কোন মন্ত্রণালয়ের কাছে কত টাকা বিদ্যুত্ বিল বকেয়া, প্রতিমন্ত্রী সেই তথ্য প্রকাশ করলেও আধাসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত কোন সংস্থার কাছে কত টাকা বকেয়া-সেই তথ্য তিনি দেননি।
প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিদ্যুত্ বিল বকেয়ার দিক থেক েসবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া ২৭৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া রয়েছে গৃহায়ণ ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে, যার পরিমাণ ১১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর ৪৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা বকেয়া থাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান তৃতীয়।
এছাড়া কৃষি ১১ কোটি ৬০ লাখ, যোগাযোগ (বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) ২০ কোটি ১১ লাখ, প্রতিরক্ষা ১৭ কোটি ৯৭ লাখ, শিক্ষা ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ, সংস্থাপন ৬ কোটি ৮৫ লাখ, পরিবেশ ও বন ৪ কোটি ২২ লাখ, অর্থ ৮ কোটি ৩২ লাখ, খাদ্য ও দুর্যোগ ২২ কোটি ৫৭ লাখ, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় (রিফিউজি ক্যাম্প) ৪১ কোটি ৩৫ লাখ, আইন ৫ কোটি ৩৭ লাখ, স্বরাষ্ট্র ৩৯ কোটি ৪১ লাখ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৫ কোটি ৪৬ লাখ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ৬ কোটি ৭৬ লাখ, ধর্ম ২৪ কোটি ৪৩ লাখ, মহিলা ও শিশু ৪ কোটি ৮৮ লাখ, বস্ত্র ও পাট ৩৫ কোটি ৭৮ লাখ, শিল্প ১৭ কোটি ১ লাখ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিদ্যুত্ বিল বকেয়া রয়েছে ১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
একই প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, এসব বকেয়া বিল আদায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পদক্ষেপসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার বকেয়ার তালিকা প্রস্তুত করে পরিশোধের বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাদের জন্য সচিবদের কাছে ডিও পত্র প্রদান, বকেয়া থাকা সঙস্থার বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রতিমাসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, প্রি-পেমেন্ট মিটার চালুকরণ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা।
মজুদ গ্যাসে ১০-১৫ বছর চলবে
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ১৪ দশমিক ৯২ টিসিএফ। এখনই দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি হ্রাস করতে এলএনজি আমদানির কার্যক্রম চলছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর এ মজুদ হতে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে এর সাথে বাইরের উত্স থেকেও গ্যাসের সংস্থান করতে হবে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের মত গ্যাস ব্যবহূত হবে বলে বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে।
৬৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধাপ্রাপ্ত
নওগাঁ-৬ আসনের ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধার আওতায় এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে সকল নাগরিকের জন্য বিদ্যুত্ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আতিউর রহমান আতিকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ এলাকা পল্লী বিদ্যুতায়িত হবে।
কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতে ঘাটতি
আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, গত ৩-৪ দিন ধরে বিদ্যুতের ঘাটতি যাচ্ছে গ্যাসের স্বল্পতার কারণে। তিনি বলেন, আবাসিক গ্যাস খাতে সরকারকে অনেক ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এজন্য সরকার আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে এলপিজি-কে আরও প্রসারিত ও সুলভ করার উদ্যোগ নিয়েছে।