নওয়াজ উত্খাতে সেনাবাহিনীর একটি অংশ তত্পর ছিল!

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০০:২৩

চলমান সংকটময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে উত্খাতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন পাঁচজন কর্মকর্তা সচেষ্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ এর পক্ষে ছিলেন না। তার দাবি অনুযায়ী পেশিশক্তির জোরে নয় বরং রাজনৈতিকভাবে চলমান সংকটের গণতান্ত্রিক সমাধান করার পক্ষে ছিলেন তিনি। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স পাকিস্তানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ এক মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগস্টের শেষ দিকে ইসলামাবাদে সরকারবিরোধী হাজারো আন্দোলনকারী যখন নওয়াজ শরিফের বাসভবন দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল তখন রাওয়ালপিন্ডির এক সামরিক এলাকায় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে মিলিত হন। চার ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে পাকিস্তানের গণতন্ত্র আরও একবার হুমকির মুখে পড়ার উপক্রম হয়। তবে সেনাপ্রধান রাহিল বেসামরিক নেতৃত্বকে উত্খাত করার এটি উপযুক্ত সময় নয় বলে মত দেন। তিনি ঘোষণা দেন, রাজনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে হবে।
এর পরপরই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। ওই বিবৃতিতে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান আরও একবার সেনা অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করার হাত থেকে রক্ষা পায়।
ওই মন্ত্রী জানান, সংকট মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে আরও ‘সক্রিয় ভূমিকা’ পালনের জন্য জেনারেল পদমর্যাদার অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তা কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন। সেনাবাহিনীর দুটি সূত্রও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে একটি সূত্র জানায়, ‘রাহিল শরিফ সরাসরি হস্তক্ষেপের বিষয়ে আগ্রহী নন। ট্যাংক বহর অগ্রসর হবে না। সেনাবাহিনী সমঝোতায় বিশ্বাসী।’
একটি গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নওয়াজের হাত থেকে রেহাই পেতে ‘সেনাবাহিনী নয় বরং আইএসআইয়ের ভেতরকার কিছু শক্তি ইমরান খানকে সমর্থন দিয়ে আসছে।’ গত আগস্টে পাকিস্তান সরকারের ঘনিষ্ঠ একজন রয়টার্সকে জানান, সেনাবাহিনী নওয়াজ শরিফকে আশ্বস্ত করেছে যে তাঁকে পদচ্যুত করা হবে না এবং কোনো অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটবে না। এর পরিবর্তে সরকারকে সেনাবাহিনীর কিছু বিষয় আমলে নিতে হবে।