বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এবং নাটোর-বগুড়া সড়কে পৃথক দুটি ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ১৭জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় উভয়স্থানে ডাকাতদের সাথে পুলিশের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় শাজাহানপুর থানার ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকতা আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টারদিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের নাদুরপুকুর এলাকায় এবং রাত সাড়ে ১২ টায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বেতগাড়ী লিচুতলা এলাকায় এই দুটি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় স্থান থেকে দুইটি ট্রাকসহ ১৭ জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আহতরা হচ্ছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান, উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন কুার কুন্ডু এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তৌরিদুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্যদের কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহূত দুটি ট্রাক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায় , শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল মান্নান, এসআই তাজমিলুর রহমান, তৌরিদুল ও খোকন কুমার কুন্ডু সহ সঙ্গীয়য় ফোর্স নিয়ে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে রাত্রিকালিন ডিউটি ও তদারকি করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাদুরপুকুর এলাকায় ট্রাকে করে ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা ট্রাকের উপর থেকেই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ১২ ডাকাতকে আটক করে পুলিশ।
অপরদিকে থানার এসআই আলমগীর ও আব্দুর রহিম ফোর্স সহ রাত্রীকালিন টহলকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে সাড়ে ১২ টারদিকে উপজেলার বেতগাড়ী নামক স্থানে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ট্রাকযোগে ডাকাতির খবর পেয়ে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাতদল পালানোর চেষ্টা করলে ৫ডাকাতকে আটক করে পুলিশ।
ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ব্যবহূত ২ টি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৯৪৭৪ ও ঢাকা মেট্রো-ড-১১-১৯৩৫) এবং ২৪ ও ৩৫ ইঞ্চি ২টি কার্টার, ১টি চাপাতি, ১টি রামদা, ২টি হাসুয়া ও ২টি লোহার রড উদ্ধার করে পুলিশ।
নাদুরপুকুর এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বগুড়া সদর উপজেলার চাঁদমুয়া গ্রামের আব্বাস ফকিরের পুত্র আব্দুর রশিদ (২২), সোনাতলা উপজেলার শালিকা গ্রামের আব্দুল গফুরের পুত্র আব্দুল ওয়ারেছ (৩১), দক্ষিন আটঘরিয়া গ্রামের শামসুল হকের পুত্র আব্দুল মমিন (২২), কুশারগোফ গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র তারাজুল ইসলাম (২০), কাহালু উপজেলার খেয়ারভূগল গ্রামের ময়েজ উদ্দিন প্রামানিকের পুত্র ফরিদ (৩০), বোনবোনাই গ্রামের তাহের প্রামানিকের পুত্র স্বপন (২২), পীলকুঞ্জ গ্রামের মকবুল হোসেনের পুত্র আকরাম হোসেন (৪০), মহিষামুরা গ্রামের রজবত ফকিরের পুত্র আব্দুল হান্নান (৩৫), শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল গ্রামের জহুরুল ইসলামের পুত্র শহিদুল ইসলাম (২৩), গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনারপাড়া গ্রামের শাহ আলমের পুত্র পলাশ (২২), মাছতা গ্রামের মাহতাব হোসেনের পুত্র বেলাল হোসেন (১৯) ও ইমান আলী সরকারের পুত্র পিনু সরকার (২০) ।
বেতগাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল গ্রামের সোনা মিয়ার পুত্র মামুন (১৯), টিপাগাড়ী গ্রামের আব্দুল বাকির পুত্র ওয়াহেদ আলী (৩৫), আলাইপুর নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র তারাজুল ইসলাম (৩৫) ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কলাকাটা হামছায়াপুর গ্রামের বুলু মিয়ার পুত্র বাবু মিয়া (৩২) , সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র রুমন (১৯)। অভিযানকালে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লেও কোন আগ্নেস্ত্র বা একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল মান্নান ডাকাতদের সাথে গুলি বিনিময়ের কথা স্বীকার করে বলেন , পৃথক দু’টি ঘটনায় ডাকাতরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লেও সঠিক হিসেব বলা মুশকিল। তবে পুলিশও পাল্টা ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়েছে। এ সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী ডাকাত পালিয়ে গেলেও তাদেরকে গ্রেফতার ও কোন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আহত পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিক চিকিত্সা গ্রহণ করেছেন। কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।
তিনি আরো জানান, প্রায় একই সময়ে পৃথক দু’টি ডাকাতি প্রস্তুতির ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা একই চক্রের সদস্য। ডাকাতি কাজে ব্যবহূত আটককৃত ট্রাক দু’টিও একই মালিকের। মোকামতলা এলাকার স্বপন নামের ওই ট্রাক মালিক সিরাজগঞ্জ, বগুড়া সহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় অপরাধীদের দিয়ে গরুর ট্রাক ডাকাতি সহ বিভিন্ন ধরনের চুরি-ডাকাতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এছাড়াও শাজাহানপুর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
