লোকেশন ট্র্যাকিং এর জন্য জিপিএস ব্যবহার করা হয়। যদিও আমরা এমনটাই জেনে এসেছি। লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের বাইরেও রয়েছে জিপিএস- এর বহুমুখী ব্যবহার। পরিবারে সদস্যদের নজরদারি করা, নিরাপত্তার কাজে জিপিএস -এর ব্যবহার, শিশুদের জন্য জিপিএস -এর ব্যবহার, হারিয়ে যাওয়া স্মার্ট ডিভাইস ফিরে পাওয়াসহ জিপিএস -এর বহুব্যবহার আমাদের অনেকেরই অজানা। শুধু জিপিএসই নয়, স্মার্টফোন দিয়ে বিনামূল্যে এমন অনেক সেবা গ্রহণ করা সম্ভব। জিপিএস -এর গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো এ লেখায়। লিখেছেন মাহবুব শরীফ
নজরদারিতে জিপিএস
এমন অনেক সময়ই আমাদের সামনে আসে যখন আমাদের পরিবারের সদস্যরা কে, কোথায় রয়েছে তা জানা দরকার হয়ে পড়ে কিংবা নিজের অবস্থানটিকেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে রাখা দরকার হয়। লাইফ ৩৬০ (Life 360) নামের একটি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই কাজটি খুব সহজেই করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ছাড়াও আইওএস ও উইন্ডোজ ফোনের জন্য রয়েছে এই অ্যাপসটি। অ্যাপসটি আপনাকে আপনার পরিবারের সকল সদস্যের সঙ্গে একটি দলের মধ্যে রাখবে যেখানে এই দলের সব সদস্যের সার্বক্ষণিক অবস্থান সবসময় শেয়ার করা থাকবে। ফলে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, এই অ্যাপসটি আপনাকে জানিয়ে দেবে যে, আপনার পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় রয়েছেন। একই ধরনের আরও একটি অ্যাপস হলো গ্লিম্পস (Glympse)। এটিও অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও উইন্ডোজ ফোনের জন্য রয়েছে বিনামূল্যেই। এই অ্যাপসটির মাধ্যমে আপনি যে কারো সঙ্গেই যুক্ত হতে পারবেন এবং পারস্পরিক লোকেশন শেয়ারিং করতে পারবেন। রিয়েল টাইমে লোকেশন ট্র্যাক করার সুবিধাও রয়েছে এতে।
নিরাপত্তায় জিপিএস
নিরাপত্তা নিয়ে যারা একটু বেশি চিন্তিত, তারা ব্যবহার করতে পারেন বিসেফ (bsafe) নামের অ্যাপসটি। আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহারের উপযোগী এই অ্যাপসে আপনি আপনার পছন্দমতো যতজন খুশি ততজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং নিজেদের মধ্যে লোকেশন শেয়ার করতে পারবেন। তবে এই অ্যাপসটির বড় বৈশিষ্ট্য হলো বিপদের সময় মাত্র একটি অ্যালার্ম বাটন চাপলেই এটি সতর্ক বার্তা ছড়িয়ে দেবে আপনার নেটওয়ার্কে থাকা সকলকে এবং আপনার অবস্থানটিও সকলকে জানিয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, এটি সাইরেনের মতো শব্দও তৈরি করতে পারবে যদি আপনি চান। আবার ঠিক ওই সময়ে ফোনের পরিপার্শ্বের কথাবার্তা এবং ভিডিও ধারণ করে অ্যাপসটি জমা রাখবে বিসেফ অ্যাপসের সার্ভারে। পরে কোনো ধরনের প্রমাণ লাগলে সেগুলো আপনি সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।
শিশুর জন্য জিপিএস
আপনার সন্তানকে হয়ত চোখে চোখে রাখা সম্ভব হবে না, কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে এসে জিপিএসের মাধ্যমে তার অবস্থানকে ঠিকই চোখে চোখে রাখতে পারবেন। জিপিএস সমর্থিত যেকোনো স্মার্টফোনে জিপিএস ট্র্যাকিং প্রো (GPS Tracking Pro) অ্যাপস ব্যবহার করেই সেটা করা সম্ভব। তবে সন্তানের হাতে স্মার্টফোন না দেখতে চাইলে সেক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন ট্র্যাকআইডি’র মতো জিপিএস ট্র্যাকার। ট্র্যাকারটি সন্তানের স্কুল ব্যাগে কিংবা জামা-কাপড়ের কোথাও লাগিয়ে রাখলে যেকোনো ওয়েব ব্রাউজার থেকেই তার গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারবেন।
হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসের সন্ধানে জিপিএস
প্রতিদিনের ব্যবহারে অনেক কিছুই আমরা হারিয়ে ফেলি। ঘরের চাবি থেকে শুরু করে চশমা, হাতঘড়ির মতো জিনিসগুলো যেন একটু বেশি বেশিই হারিয়ে যায়। তখন এগুলো খুঁজে বের করাটা একটা ঝক্কির ব্যাপার। তবে এই কাজেই আপনাকে সাহায্য করতে পারে জিপিএস প্রযুক্তি। জিপিএস ব্যবহার করে এখন অনেক ব্লুটুথ ট্যাগ তৈরি হয়েছে যেগুলো যেকোনো কিছুর সঙ্গেই লাগিয়ে দেওয়া যায়। আর তারপর সেই ব্লুটুথ ট্যাগটি থেকেই আপনি ওই বস্তুটিকে সবসময় ট্র্যাক করতে পারবেন। এই ধরনের ট্যাগ রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। এগুলোর বেশিরভাগের জন্যই রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস অ্যাপ্লিকেশন যেসব অ্যাপ্লিকেশন থেকেই ট্যাগ লাগানো বস্তুর বাস্তব অবস্থানকে সঠিকভাবে জেনে নেওয়া যায়।
