যৌতুক না দেয়ায় ৩ বছর বাথরুমে বন্দী!

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:৫৫
 
ভারতের বিহারে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় তিন বছর স্ত্রীকে আটকে রাখল স্বামী ও পরিবার। রবিবার দারভাঙ্গার রামবাঘের এলাকার বাড়ি থেকে ঐ গৃহবধূকে(২৫) উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার পুলিশ একথা জানিয়েছে বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।
স্টেশন হাউজ অফিসার সীমা কুমারি তাকে উদ্ধার করেন। তার পরণে ছিল জীর্ণ পোশাক, উস্কোখুস্কো চুল ও বড় বড় নখ।
সীমা কুমারি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন অন্ধকারে থাকার ফলে তিনি সূর্যের আলোতে চোখ খুলতে পারছিলেন না।
তিনি জানান, নারীটি জানিয়েছেন, তাকে জোর করে বাথরুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। তার সন্তানকেও দেখতে দেয়া হয়নি। তাকে বাসি খাবার দেয়া হতো। যৌতুক দিতে না পারায়  ও কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়ায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার ওপর প্রতিশোধ নিতে চাইত।
অন্দ্রথাড়ির থানাধীন দ্বারভাঙা পাটসান গ্রামের বাসিন্দা ঐ নারীর ২০১০ সালে প্রভাত কুমার সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকরা আরো যৌতুকের জন্য তার ওপর অত্যাচার শুরু করে। এর মধ্যে মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অত্যাচার আরো চরমে পৌঁছায়।
সীমা কুমারি জানান, তাকে নিজের বাবা-মার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হতো না। বাবার বাড়ির কোনো আত্মীয় এলে তাদেরও অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হতো। এমনকি, অন্য কোনও বাইরের লোকের সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেয়া হতো না।
তিনি জানান, নারীটি বাথরুম থেকে বের হয় তার সন্তানের খোঁজ করেন। কিন্তু সন্তানটি তাকে চিনতে না পারায় তিনি ভেঙে পড়েন।
ঐ নারীটির বাবা শ্যামসুন্দর সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। তার স্বামী, শ্বশুর ধীরেন্দ্র সিং ও শাশুড়ি  ইন্দ্রা দেবীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।