চলতি অর্থবছরের প্রথম সাতমাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ১২ হাজার ১০১ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। যা অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৫৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিল ১২ হাজার ৭০২ কোটি টাকা। ওই বছরে যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার ৬২ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের মধ্যে খেলাপির পরিমাণ চার হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ হওয়া ঋণের ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। কৃষিখাতে বিতরণ হওয়া ঋণের স্থিতি এখন ৪০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আলোচ্য সময়ে সরকারি মালিকানার আট ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। বেসরকারি ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম সাতমাসে অর্জন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৫৫ দশমিক ৫১ শতাংশ।
কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এবিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, বিকেবি একক ব্যাংক হিসেবে গত সাতমাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। বছর শেষে মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকবে বলেও মনে করেন তিনি। সার্বিক ব্যাংকিং খাতে কৃষি ঋণ বিতরণ কিছুটা কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো সাধারণত বছরের হিসেব করে। বছর শেষে মোট বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলো কিনা সেটা দেখে। তাই অর্থবছরের প্রথম অর্ধেকে ঋণ বিতরণ কিছুটা কম হলেও পরের অর্ধেকে তা পূরণ হয়ে যাবে। কৃষি ঋণ বিতরণে অন্যান্য ব্যাংকও ভালো ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন এই ব্যাংকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২ শতাংশ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করার কথা। পল্লী অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণে বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচিতে ঋণ বিতরণও কৃষি ঋণের আওতাভুক্ত। তথ্য অনুযায়ী অন্যান্য ঋণের পাশাপাশি আনুপাতিকহারে কৃষি ঋণ বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। যে সব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে শাখা নেই সে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককেও এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে নির্দিষ্টহারে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুদ হার নির্ধারিত আছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (এমআরএ) নির্ধারিত ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণে নির্ধারণে যে সুদ হার সেই হার। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে এই কার্যক্রম শুরু করে।
