ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ’র ওপর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা তাকে কিল-ঘুষি মারে এবং শার্ট ছিড়ে ফেলে। শনিবার দুপুরে সেখানে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বেরিয়ে আসার পথে এ হামলার শিকার হন মাহবুব উল্লাহ।
মাহবুব উল্লাহ জানান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ছিলো। ওই অনুষ্ঠানে একজন আলোচক হিসেবে বক্তব্য শেষ করে আসার সময় ৫-৬ জন সন্ত্রাসী তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা কিল-ঘুষি-চড় ও লাথি দিয়ে মাহবুব উল্লাহকে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান এবং তার জামাকাপড় ছিঁড়ে যায়। হামলার বিষয়টি বুঝতে পেরে অনুষ্ঠানের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি। পরে তিনি সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-অ্যাব এর মহাসমাবেশে চলে আসেন।
মাহবুব উল্লাহ যখন মিলনায়তনে আসেন তখন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বক্তব্য যখন শেষ করে এনেছিলেন তখন বিধ্বস্ত মাহবুব উল্লাহ মঞ্চে ওঠেন। মাহবুব উল্লাহকে দেখে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আবার বলা শুরু করেন। তিনি জানান, এ ঘটনা তিনি আগেই শুনেছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, সুপ্রীমকোর্টের ভিতরে মাহবুব উল্লাহ’র ওপর যে হামলা হয়েছে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। ‘আমরা মনে করি, সরকারের সন্ত্রাসীরাই মাহবুব উল্লাহ’র উপর হামলা করেছে। খালেদা বলেন, এভাবে দেশ চলতে পারে না। এভাবে দেশ চলতে দেয়া যায় না ।
পরে ড. মাহবুব উল্লাহ মহাসমাবেশে ঘটনার বর্ননা দিয়ে বলেন, আমি সাধারণত সভা-সেমিনারে কাউকে আক্রমণ করে কোনো বক্তব্য দেই না। সত্য ও তথ্যনিভর্র কথাগুলোই বলার চেষ্টা করি। ‘আমি একজন শিক্ষক। তারপরও আমার উপরে এই বর্বরোচিত হামলা হলো, আমি এর বিচার চাই।’
এদিকে, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহের উপর হামলার ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সুপ্রীমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
