বাংলাদেশের বাংলা পাল্টে যাচ্ছে: নবনীতা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৬:১৫
 
কবি ও ঔপন্যাসিক নবনীতা দেবসেন বলেছেন, বাংলাদেশের বাংলা পাল্টে যাচ্ছে। অবাংলা শব্দে ভর্তি। পাঞ্জাবি ও উর্দু ছাড়াও প্রচুর আঞ্চলিক শব্দের আধিক্য এখন বাংলাদেশের সাহিত্যে। স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে নিউইয়র্কের মুক্তধারা আয়োজিত এক সাহিত্য আড্ডায় এই অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
মুক্তধারার প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিত সাহার পরিচালনায় এই সাহিত্য আড্ডায় দুই বাংলার সাহিত্য, প্রবাসের সাহিত্য, ভাষার পরিবর্তন, দেশভাগ, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং স্মৃতিচারণ উঠে আসে। নিউইয়র্কের উল্লেখযোগ্য কবি, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সাহিত্য নিয়ে আলাপ ছাড়াও ছিল অটোগ্রাফ অনুষ্ঠান।
‘প্রবাসে দৈবের বশে’র লেখক নবনীতা দেবসেন ১৯৫৯ সালে আসেন প্রথম আমেরিকায়। তার জীবনের অনেক সময় তিনি অতিবাহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে।
তিনি বলেন, তবে আমি কখনো আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারিনি। মানুষ প্রবাসী হয় নিজের সিদ্ধান্তে। তার হৃদয়ে ধারণ করে প্রবাস জীবন। আবার সে হৃদয়ে মাতৃভূমিও ধারণ করে। অমর্ত্য সেনের সাথে যখন তিনি আমেরিকায় দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন, সেময়ে তাদের সন্তানদের জন্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন।
নবনীতা দেবসেন আরো বলেন, একসময় যখন আমেরিকায় আসতাম তখন বাংলা বইয়ের প্রতিষ্ঠান বা বাংলা বইমেলা হবে এটা ছিল কল্পনার বাইরে। আজ আমাদের লেখা অক্ষরগুলো নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থরাশি আমেরিকায় দেখে আমি অভিভূত। তাই আমেরিকায় আসলেই বারবার ছুটে আসি মুক্তধারায়।
কবি নরেন্দ্র দেব ও রাধারানী দেবীর কন্যা নবনীতা দেবসেন বলেন, ভাষার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, কোনো ধর্মীয় কারণে নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য বড় গৌরবের।
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আড্ডায় অংশগ্রহণ করেন প্রবীণ সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদ, নাসিমুন নাহার নিনি, সউদ চৌধুরী, রেখা আহমেদ, অধ্যাপিকা হোসনে আরা, কবি খন্দকার জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক নাদিয়া আহমেদ, আদনান সৈয়দ, তানভীর রাব্বানী, গোপাল সান্যাল, সেমন্তী ওয়াহেদ প্রমুখ।