পুড়ছি অপরিকল্পনার যন্ত্রণায়

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০০

আবার সেই হাহাকার, অসহায় পিতার, স্ত্রীর, সন্তানের চোখের জলের সামনে গিয়ে নিথর হয়ে থাকার আর সারি সারি লাশ, পুড়ে যাওয়া লাশ! ত্রিশ সেকেন্ড, তিনটি বিস্ফোরণ, চোখের সামনে অনেক স্বপ্নের মৃত্যু। বলা যায় খুব পরিকল্পনা করে অপরিকল্পনাগুলো করার খাদেই পড়ি আমরা আর অবশিষ্ট থাকে তদন্ত করে শুধু কারণটি উদ্ধার করা। বাকি সময়টুকু যেভাবে যে চলছে চলুক না!

কেমিক্যাল গুদাম সরানোর ব্যাপারে কথা হচ্ছে সেই নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই। কিন্তু আজ পর্যন্ত হলো না! বারো ফুট রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওপরের দিকে তাকালে আকাশটাকে মনে হবে ধানখেতের আলের মতো চিকন একটি পথ—তার পুরোটুকুই বিদ্যুতের তার দিয়ে পরিপূর্ণ! আর নিচে কেমিক্যাল গুদাম। কেমিক্যাল বেশিরভাগই দাহ্য পদার্থ; অথচ আমরা কোনো উদ্যোগই নিতে পারিনি এ বিষয়ে। যে কোনোভাবে এই কেমিক্যাল গুদাম আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিন। শহরের সকল রাস্তা স্ট্যান্ডার্ড মাপে নিয়ে আসুন। গৃহে, হাসপাতালে, স্কুলে, হোটেলে, মসজিদে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা যুগোপযোগী করুন। ইলেক্ট্রিক লাইন প্রয়োজনে মাটির নিচ দিয়ে নিন। টেকসই উন্নয়নের কথা বলার সঙ্গে মিল রাখতে গেলে পরিকল্পিত নগর ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিতে হবে সবার আগে। একটি মানুষেরও অপমৃত্যু হলে এ দায় থেকে আমরা মুক্তি পাব না। আজ যে শোকের মধ্যে আমরা আবৃত হয়েছি তা একদিনের দায় নয়। প্রতিনিয়ত অপরিকল্পনার পথে চলতে চলতে অভ্যস্ততা নামক যে স্থবিরতা আমাদের ঘিরে ধরছে তা পুরো জাতির জন্যই অনেক বড় ধস ডেকে নিয়ে আসতে পারে।

সাঈদ চৌধুরী, শ্রীপুর, গাজীপুর