নরসিংদী জেলার আয়তন ৩৩৬৬.০৫ বর্গকিলোমিটার। এ জেলার বিভিন্ন উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, আড়িয়াল খাঁ, পাহাডিয়া ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। এসব নদী অধিকাংশই আজ দূষণের শিকার। অতীতকাল থেকেই নরসিংদী জেলা তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। জেলার আশেপাশে গড়ে উঠেছে আধুনিক বস্ত্র শিল্পকারখানা। আর এসব বস্ত্রশিল্পের কারখানাগুলোই নরসিংদী জেলার নদীগুলো দূষণের জন্য অনেকাংশে দায়ী। এসব কারখানা থেকে নির্গত রঞ্জক পদার্থগুলো সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী কলকারখানার জন্য বিষাক্ত বর্জ্য পরিশোধনকারী ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট পান্ট (ইটিপি) থাকা আবশ্যক। কিন্তু এখানকার অধিকাংশ কারখানায় ইটিপি নাই। আর যে কারখানাগুলোতে ইটিপি আছে, উত্পাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ইটিপি ব্যবহার করছে না। যার ফলে রঞ্জক পদার্থগুলো সরাসরি নদীতে আসছে। নদীর পানি দূষণের ফলে নদীতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। দূষিত পানি থেকে ছড়াচ্ছে চর্মরোগ ও হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগজীবাণু। নদীর পানি পচে গিয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রভাব বিস্তার করছে আশেপাশের জনবসতির ওপর। এ অবস্থায় এখানকার জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে আছে। সমপ্রতি দুই-একটি নদীতে ড্রেজিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে—এর ফলে সৃষ্ট দুর্গন্ধ আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায়, প্রশাসনের উচিত হবে সকল কারখানাকে আইনের আওতায় এনে বিষাক্ত বর্জ্য পরিশোধনে বাধ্য করা। এখনই এর প্রতিকার না করলে নদীগুলোকে দূষণের কবল থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ।
মো. শাহ আলম
রসায়ন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
