প্রকৃতির রানি গুলিয়াখালি

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৫

এই দেশে প্রকৃতি যে কত রূপে নিজেকে সাজিয়েছে, তা ‘ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া’ই বোঝা যায়। সীতাকুণ্ডের পথে যেতে যেতে সেই সৌন্দর্য বুঝে নিচ্ছিল দু চোখ। এবারের ভ্রমণে আমরা সংখ্যায় ছিলাম ৬ জন—সবাই দে ছুট ভ্রমণ সংঘের বন্ধু।  সীতাকুণ্ড পৌঁছে প্রথমেই গিয়েছিলাম কুমিরা সন্দ্বীপ ঘাট। মহাসড়ক থেকে বাঁক নিয়ে খুব অল্প সময়েই পৌঁছে গিয়েছিলাম ঘাটে। গাড়ি রেখে এগিয়ে দেখেছিলাম এক বিস্ময়—সমুদ্রের বুকে এক পায়ে হাঁটার ব্রিজ চলে গেছে বহুদূর। এই ঘাট থেকেই সন্দ্বীপ যাওয়ার ট্রলার ছাড়ে। যাত্রীদের সুবিধার্থেই এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন তা ভ্রমণপিপাসুদেরও আকৃষ্ট করছে। ব্রিজের গায়ে আছড়ে পড়া ঢেউ আর স্থানীয়দের বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য বেড়াতে আসা মানুষদের বাড়তি আনন্দের জোগান দেয় বৈকি। কুমিরাতেই বিশ্বের নানা সমুদ্রে বীরদর্পে চলা নানা জাহাজ এসে বিশ্রাম নেয়। অর্থাত্ এখানে জাহাজগুলোকে স্ক্রাব করা হয়। স্ক্রাব করার আগের মুহূর্তের নোঙর করার দৃশ্যও অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করার মতো সুন্দর। আর বিকালবেলাটাই কুমিরা ঘাটে পর্যটকদের ঘোরাঘুরির আদর্শ সময়।

এরপরের গন্তব্য ছিল সৌন্দর্যের আরেক আধার গুলিয়াখালী, নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত মুরাদপুর। এখনো এই সৈকত অনেকের কাছেই অচেনা-অজানা। ছোট্ট একটা বাজারে গাড়ি রেখে খানিকটা কাদাপানি মাড়িয়ে পৌঁছে গেলাম সাগরের উত্তাল জলরাশির ধারে! প্রথম দর্শনেই চোখ জুড়িয়ে গেল। এখানকার অপরূপ সব দৃশ্য, ছলাত্ ছলাত্ ঢেউ আর ঝিরিঝিরি বাতাস মন ছুঁয়ে যায়। মুরাদপুর সৈকতজুড়ে আছে কচি ঘাসের বিস্তীর্ণ মাঠ, অবারিত জলরাশি, দৃষ্টির সীমানায় সবুজ পাহাড়। আহ! এমন পরিবেশে মন এক অন্যরকম ভালোলাগায় আচ্ছন্ন হয়। প্রকৃতি যেন তার সবটুকু মেলে ধরেছে এই মুরাদপুর সৈকতে। ইচ্ছে করলে নামমাত্র খরচে বোট দিয়ে ঘুরা আসা যায় সমুদ্রের অথৈ জলে। চমত্কার সূর্যাস্ত! নোনা জলে পা ভিজিয়ে মনে হয়েছিল, কেন আমি এই রূপ দেখিনি এতটা বছর। অথচ এর পাশ দিয়েই গিয়েছি কতশতবার। উচ্ছ্বাস যখন চরমে তখন, সূর্যমামা সেদিনের মতো লাল আভা ছড়িয়ে টুপ করে ডুব দিল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে আমরাও ফিরতি পথ ধরি; তবে হেঁটে নয়, বোটে। সত্যি বলতে কি, যদি বোটে না ফিরতাম, তাহলে ভ্রমণের অপূর্ণতাই রয়ে যেত। সৈকত থেকে যখন তীরে ফিরছি, তখন মনে হয়েছিল যেন  সোয়াম্প ফরেস্টের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। জলমগ্ন গাছের পাতার ফাঁক গলে অর্ধচন্দ্রের আলোতে বোট যতই এগিয়ে যায়, ততই যেন মনে হয় এই বাংলার রূপ আমি তো এখনো কিছুই দেখিনি!  

যাবেন কীভাবে

বিভিন্ন পরিবহনের বাস সার্ভিস রয়েছে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার। চট্টগ্রাম যাওয়ার আগেই সীতাকুণ্ড নেমে যাবেন। সুবিধা হয় নিজস্ব বা ভাড়া গাড়ি নিয়ে গেলে।

 

 

থাকবেন কোথায়

যারা পরিবারের বিভিন্ন বয়সের সদস্য নিয়ে যাবেন, তারা দুদিনের সময় নিয়ে আগেই চট্টগ্রাম শহরের কোনো হোটেলে রুম বুকিং দিয়ে নেবেন। কারণ সীতাকুণ্ডে ভালোমানের কোনো আবাসিক হোটেল নেই। আর যারা শুধুই বন্ধুমহল নিয়ে যাবেন তাাঁ আগের দিন রাতে রওনা দিয়ে পরের দিন ঘুরে, সন্ধ্যার পরেই ফিরতে পারবেন।

 

 

আরও কী কী দেখবেন

নয়াদুয়ারির উজিলা পাহাড়, মহামায়া লেক ও সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক।