পর্যটন নিয়ে ভিন্ন উদ্যোগ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৫

 

সুমি ইসলাম খন্দকার। পরিবার আর বন্ধুবান্ধবের কাছে তিনি মালিহা নামে পরিচিত। তবে তার চেয়েও বড় পরিচয় হলো তিনি একজন তরুণ নারী উদ্যোক্তা। দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাচ্ছেন পর্যটন নিয়ে। এই সেক্টরটি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এখনো অমসৃণ বলা যায়। তারপরও শত বাধা পেরিয়ে তিনি নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। তার গল্প শোনাচ্ছেন তাসনিয়া কবির

ছোটবেলা থেকেই মালিহার ঘোরাঘুরি বেশ পছন্দ ছিল। তবে মেয়ে বলে পরিবারের একটু বাঁধাধরা নিয়ম আর অনুশাসনের মধ্যে বড় হতে হয়েছে, তাই ঘোরাঘুরিতে একটু কড়া নিয়ম ছিল। কলেজে ওঠার পর প্রথম ঘুরতে গেলেন বন্ধুদের সাথে। মালিহা বলেন, ‘আম্মার অনুমতি নিয়ে প্রথম বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেলাম। সেই বারই প্রথম গিয়েছিলাম কক্সবাজার। তখন এত বড় সমুদ্রসৈকত দেখে আমার মুগ্ধতা কাটছিল না। সেই সময়ই আমার মনে হয়েছিল, যদি এত সুন্দর একটা জায়গাকে সবার কাছে, সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা যায়। যদি বিদেশি পর্যটকরা আসত এই সুন্দর বিচটা দেখতে। মূলত তখনই ভেবেছিলাম একটা ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সি করার কথা।’ তারপর দেশের আরও সুন্দর সুন্দর জায়গায় বেড়ানোর পর ২০০৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ম্যাক্সিমাস বিডি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস। বিদেশি পর্যটককে দেশের প্রতি আকৃষ্ট করা আবার দেশি পর্যটকরা কীভাবে ঝামেলা ছাড়াই দেশের বাইরে যেতে পারেন, সেটা নিয়েই মূলত তারা কাজ করছেন। বাংলাদেশের ট্যুরিজমের বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে মালিহা বলেন, ‘আগের চেয়ে এখন আমাদের দেশ অনেক বেশি সুন্দর। নতুন নতুন অনেক জায়গা এখন ঘোরার জন্য যোগ হচ্ছে, যেমন :এ তালিকায় সাজেক যুক্ত হয়েছে, প্রচুর মানুষ সেখানে যাচ্ছে। শুধু দেশ না, দেশের বাইরে থেকেও আমরা বিদেশিদের সাজেক ঘোরাতে নিয়ে যেতে পারি। অনেক সুন্দর সুন্দর ঝরনা যুক্ত হয়েছে ঘোরার তালিকায়। তা ছাড়া আমার বুদ্ধিজম নিয়ে কাজ করছি। সেখানে দেখছি, জাপানিরা, বিশেষত যারা সিনিয়র সিটিজেন তারা বৌদ্ধ মন্দিরগুলো ঘুরে দেখতে বেশ আগ্রহী। আমাদের দেশে মহাস্থানগড়, রাঙামাটি, বান্দরবনে বেশ কিছু বৌদ্ধ মন্দির আছে যেগুলো আমরা তাদের কাছে তুলে ধরছি ,তারাও বেশ আসছে আমাদের দেশে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভুটান যেভাবে বুদ্ধিজম নিয়ে একটা ট্যুরিজম তৈরি করেছে আমরাও সেভাবে তৈরি করতে চাইছি।’ দেশের সম্ভাবনার পাশাপাশি মালিহা দেশের ট্যুরিজম বাজরের সমস্যাগুলো আর সমস্যার সমাধান নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, ‘আমাদের দেশে ট্যুরিজমের অন্যতম বড় সমস্যা হলো নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক কিছু বিছিন্ন ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রকাশ পাওয়ায় বিদেশিরা আসতে চাচ্ছেন না দেশে। বা এলেও তাদের আমরা ঠিকমতো নিরাপত্তা দিতে পারছি না। তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আবার জ্যামের কারণেও তাদের এ দেশে ঘুরতে আসার ইচ্ছাটা মরে যাচ্ছে। আর ট্রান্সপোর্টের সমস্যা তো আছেই, দেশের ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে যাওয়ার রাস্তাগুলোর অবস্থা বেশ খারাপ, ভাঙাচোরা। এই নিরাপত্তা আর সড়ক মেরামতের দায়িত্ব তো সরকারকে নিতে হবে। ট্যুরিজম বোর্ডকে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর নিরাপদ করতে হবে, সেগুলোর যথাযথ দেখাশোনা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন ট্রাভেল ফেস্টে কাংলাদেশকে বেশি বেশি করে উপস্থাপন করতে হবে। এ ব্যাপারেও সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’ নিজেদের কাজ নিয়ে মালিহা বললেন, ‘আমরা বেশি করে আমাদের দেশকে উপস্থাপন করতে চাচ্ছি বিশ্বের দরবারে। কিন্তু যদিও খুব কম মানুষ আসছে আমাদের দেশে। তবে আমাদের দেশের মানুষ এখন বেশ ভ্রমণপ্রিয় ,তারা এখন দেশের বাইরে ঘুরতে যাচ্ছে। দেশের বাইরে তুর্কি, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মিসর, কম্বোডিয়া, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশে ঘোরার জন্য আমার প্যাকেজ সেল করছি এবং বেশ সাড়া পাচ্ছি। আর দেশের মধ্যে দেশের সব সুন্দর জায়গার প্যাকেজ সেল করছি।’