ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নবযুক্ত ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ১৬ জন। এরমধ্যে ১২ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। এছাড়া একজন বিএনপি ও একজন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাকি দুজনের একজন জাতীয় পার্টির (জাপা) ও অপরজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
ঢাকা-৪ আসনের শ্যামপুর ইউনিয়ন ভেঙ্গে ৫৮ ও ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। দুটি ওয়ার্ড ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনভুক্ত। এরমধ্যে মেরাজনগর, মোহাম্মদবাগ, কদমতলী, ওয়াসা ও ঢাকা ম্যাচ নিয়ে গঠিত হয়েছে ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের সঙ্গে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণের নতুন ওয়ার্ডগুলোতেও ভোটগ্রহণ হবে।
বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে কার্যত লড়াই চলছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের। এই লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ‘রেডিও’ প্রতীকে কাউন্সিলর প্রার্থী খলিলুর রহমানের বাড়িতে ‘ব্যাডমিন্টন’ প্রতীকে একই দলের আরেক প্রার্থী খোরশেদ আলম ওরফে বাবু মাস্টারের লোকজন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খলিল ও বাবু মাস্টার দু’জনই কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য। হামলায় আহত খলিল বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। এই ঘটনায় শুক্রবার কদমতলী থানায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বাবু মাস্টারের ছেলে নেহালকেও আসামি করা হয়েছে।
আহত খলিলের জামাতা সুজন অভিযোগ করে গতকাল শনিবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাবু মাস্টারের হুকুমে তার লোকজন এই হামলা চালায়। হামলার সময় তিন বছরের এক শিশুকে ড্রেনের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। খলিলের স্ত্রী ও মেয়েকেও আঘাত করে সন্ত্রাসীরা।’ এ ব্যাপারে জানার জন্য বাবু মাস্টারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন সিরিভ করেননি। কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য হাতেম আলী সরকার ‘করাত’ মার্কা নিয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন।
৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা জানান, কাউন্সিলর পদে ক্ষমতাসীন দলের ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে দলের মূল প্রার্থী কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকাশ কুমার ভৌমিক (‘ট্রাক্টর’ মার্কা)। কিন্তু আওয়ামী লীগের আরও ১১ জন প্রার্থী থাকায় এখানে তার বিজয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের ১২ প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ের সুযোগ নিতে পারে বিএনপির প্রার্থী তাওলাদ হোসেন (‘প্রদীপ’ মার্কা)। জামায়াতের ফিরোজ আশরাফি (‘ঠেলাগাড়ি’ প্রতীক) প্রার্থী হলেও মাঠে তার কোনো প্রচারণা নেই। ফিরোজের লোকজন কার্যত কাজ করছেন বিএনপির তাওলাদের পক্ষে।
স্থানীয়রা জানান, কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ দলীয় উল্লেখযোগ্য অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শফিকুর রহমান খান, রোখসানা আক্তার পারুল (কাঁটাচামচ), শ্যামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী শহীদুল্লাহ (সূর্য্যমুখী ফুল) ও শ্যামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (ঘুড়ি)। এছাড়া রয়েছেন জাপার হোসেন মিয়া (টিফিন ক্যারিয়ার) ও স্বতন্ত্র দুলাল হোসেন (কেচি)।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, দলের কেন্দ্র কিংবা ঢাকা মহানগর থেকে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে সমন্বয় করিয়ে দেওয়া হলে সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনেও এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ‘ট্রাক্টর’ প্রতীকের জয়লাভ সম্ভব। অন্যথায় নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের ফসল যেতে পারে বিএনপি-জামায়াতের ঘরে।
