৩২ দেশের শিল্পীর দুই শতাধিক শিল্পসম্ভারে সজ্জিত প্রদর্শনীটির শিরোনাম ‘শিল্পের আলোয় মাতৃভাষা উদ্যাপন’। গতকাল শনিবার থেকে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় পক্ষকালব্যাপী এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় ভাষাসংগ্রামী, বরেণ্য শিল্পী ও লেখক মুর্তজা বশীরকে। সেই সঙ্গে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের পাঁচ শিল্পীকে প্রদান করা হয় গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসহ সম্মানসূচক পুরস্কার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে যৌথভাবে প্রদর্শনীটির আয়োজক আর্টোপলিটন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
শিল্পকলার চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও এসরোটেক্স গ্রুপের পরিচালক তামান্না তাহমিনা তানজি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন আর্টোপলিটনের পরিচালক তানজিলা সুমাইয়া সিদ্দিকী। শিল্পায়োজনটি প্রসঙ্গে কথা বলেন প্রদর্শনীর কিউরেটর শিল্পী জাহাঙ্গীর আলম। মুর্তজা বশীরের প্রশংসা বচন পাঠ করেন আরেক শিল্পী রশীদ আমিন।
জাতীয় সঙ্গীতের সুরে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পালন করা হয় এক মিনিটের নীরবতা। মুর্তজা বশীরের হাতে অবিন্তা কবির আজীবন সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ড. আনিসুজ্জামান। সম্মাননার অর্থ এক লাখ তুলে দেন মাহফুজ আনাম।
সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশে বহুমাত্রিক প্রতিভায় উজ্জ্বল মুর্তজা বশীর বলেন, আজীবন সম্মাননা শব্দটি শুনতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু এই সম্মাননাপ্রাপ্তিতে আমি আনন্দিত নই। জীবিত অবস্থায় কি পেলাম, সেটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়। মৃত্যুর পরে আমাকে কতটা স্মরণ করা হবে—সেটাই আমার কাছে বড় বিষয়।
মুর্তজা বশীরের সৃষ্টিশীল জীবনের প্রতি মুগ্ধতা ব্যক্ত করেন আরেক ভাষাসংগ্রামী আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, বহুমুখী প্রতিভার জন্য মুর্তজাকে শ্রদ্ধা করি। শুধু ছবি আঁকাআঁকিতেই থেমে থাকেনি এই ভাষাসংগ্রামীর সৃষ্টিশীলতা। লিখেছেন গল্প, উপন্যাস, কবিতা থেকে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য। তাকে এই সম্মাননা জানানোয় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। অনুষ্ঠানের প্রদর্শনীর পুরস্কারপ্রাপ্ত পাঁচ শিল্পীর নাম ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক শিল্পী মলয় বালা। ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের গ্র্যান্ড পুরস্কারটি পেয়েছেন বাংলাদেশের শিল্পী কুন্তল বাড়ৈ। ২৫ হাজার টাকা মূল্যমানের সম্মানসূচক পুরস্কারপ্রাপ্ত চার শিল্পী হলেন ভারতের স্বপন দাশ, মালয়েশিয়ার ফ্যাডলি সাবরান এবং বাংলাদেশের দুই শিল্পী সামিয়া আহমেদ ও আনিসুল হক। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এবং শুক্র ও শনিবার বেলা ৩টা থেকে রাত আটটা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
