মুক্তিযুদ্ধ লালিত সাংস্কৃতিক ধারায় বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৮:২৮
অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধ লালিত সাংস্কৃতিক ধারায় বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সম্পন্ন হলো সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সম্মেলন ২০১৪। ‘আপনা মাঝে শক্তি ধরো নিজেরে করো জয়’ স্লোগানে শনিবার সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিত্বশীল এ সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই অভিনয়শিল্পী, কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পীসহ সংস্কৃতি ভুবনের  নানা শাখার শিল্পী ও কর্মীদের অংশগ্রহণে সরব হয়ে ওঠে সম্মেলন।  দিনভর জোটভুক্ত ১৫৩টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সংগঠনের কার্যক্রম বিষয়টি আলোচনা  শেষে সন্ধ্যায় ৪৫৯ কাউন্সিলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। জোটের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম কুদ্দুছ। পুনরায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন হাসান আরিফ।
সকালে শুরু হয় সম্মেলনের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। বেলা ১২টার পর গণগ্রন্থাগারের উন্মুক্ত চত্বরে বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাখো শহীদেও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে গণগ্রন্থাগার থেকে শোভাযাত্রাসহকারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।  এর আগে শওকত ওসমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী আলোচনা পর্ব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান উচ্চারিত হয় বক্তাদের কথায়। শুরুতেই শিশু-কিশোর শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও ‘আপনা মাঝে শক্তি ধরো নিজেরে করো জয়’ গানটি পরিবেশন করে।
আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সৈয়দ শামসুল হক। আলোচনায় অংশ নেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের (আইটিআই) সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশীদ ও জোটের বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। স্বাগত বক্তব্য দেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী মো. আহ্্কাম উল্লাহ্। 
সভাপতির বক্তব্যে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ১৯৮৪ সালের প্রতিষ্ঠার পর ত্রিশটি সফল বছর পার করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এখন জোট আর কোনো সংগঠনে সীমাবদ্ধ নেই পরিণত হয়েছে একটি আন্দোলনে। এই নামটি ধারণ করে অনেকগুলো চেতনাকে। যেই চেতনা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আদর্শিক বাংলাদেশের কথা বলে; একইসঙ্গে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে।
গোলাম কুদ্দুছ বলেন, গত কয়েক বছরে হেফাজতসহ সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছিল। সেই অবস্থার এখন উন্নতি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। কারো ফাঁসি হয়েছে, কেউ যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছে। এ অবস্থায় সকল প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর তা নাহলে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, সংস্কৃতিচর্চা ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রীয়ভাবে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জাতীয় বাজেট থেকে সংস্কৃতির জন্য খুবই সামান্য পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়। যা দিয়ে আসলে সারা দেশের সংস্কৃতিচর্চাকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। এজন্য কমপক্ষে জাতীয় আয়ের  এক শতাংশ সংস্কৃতির জন্য বরাদ্দ করতে হবে।